মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেলফি পরিবহনের একটি বাসের চাপায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা বাস ভাঙচুর করে মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করলে টানা ৩ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার মৌহালি গ্রামের তাহাজের ছেলে মো. ইয়াছিন (২১) এবং একই গ্রামের মো. মোজাহারের ছেলে বাবুল (২৮)। ইয়াছিন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং বাবুলকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত ৩ জনকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে ঢাকা থেকে পাটুরিয়াগামী ‘সেলফি পরিবহন’-এর একটি বাস বাইপাস সড়ক থেকে মহাসড়কে উঠতে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে সজোরে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা সেলফি পরিবহনটি ভাঙচুর করে এবং এর চলাচলের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টানা ৩ ঘণ্টা অবরোধ চলায় মহাসড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। শিবালয় থানা পুলিশ ও বরংগাইল হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহাসড়কে সেলফি পরিবহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আশ্বাস দেন। তার এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দুপুর ১২টায় বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ ব্যাপারে বরংগাইল হাইওয়ে থানার ওসি মো. হারুন অর রশীদ জানান, ঘাতক বাসটিকে আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আহতদের মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তার আগ পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
