প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের কার্যালয়ের কর্মী পরিচয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও বিএনপির রাজনৈতিক পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার আবু হুরায়রা খালেদ রাশেদের (৩০) বাড়ি সিংড়া উপজেলার বালুয়া-বাসুয়া গ্রামে।
গতকাল শনিবার দুপুরে নাটোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরিফুল হক। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইফতেখার আলম ও জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করছিলেন রাশেদ। তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের কার্যালয়ের কর্মী পরিচয় দিতেন। এরপর সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়া কিংবা বিএনপির রাজনৈতিক পদে পদায়নের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে ভুক্তভোগী মো. কাদের গনিকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করেন রাশেদ। এ সময় তিনি নিজেকে আতিকুর রহমান রুমনের কার্যালয়ের কর্মী পরিচয় দিয়ে বিএনপির মনোনীত রাজনৈতিক পদে পদায়নের জন্য একটি ফরম পূরণের কথা বলেন। এভাবে তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, একই পরিচয়ে অনলাইনে ফরম পূরণ করে রাজনৈতিক পদে পদায়নের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিনের কাছেও টাকা দাবি করা হয়।
বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের নজরে এলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে নাটোর জেলা ডিবি। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সিংড়ার বালুয়া-বাসুয়া গ্রামে রাশেদের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় ২৪ অক্টোবর সিংড়া থানায় মামলা হয়েছে। সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২১, ২২(১), ২৩(১)(ঙ) ও ২৪ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪১৯ ও ৪২০ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশের ভাষ্য, রাশেদ ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতারের রংপুর কেন্দ্রে রেডিও টেকনিশিয়ান পদে সরকারি চাকরি করেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় একই ধরনের প্রতারণার মামলায় তিনি সাময়িক বরখাস্ত হন বলে দাবি পুলিশের।
এ ছাড়া রাশেদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন ও প্রতারণার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
