নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক চিকিৎসককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে এক অ্যাম্বুলেন্স চালককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন ও মানববন্ধন করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি শুরু হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে শহরের চৌরঙ্গি মোড়ে মানববন্ধন করেন তাঁরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদন নিতে যান বেসরকারি একটি অ্যাম্বুলেন্সের চালক নাঈম ইসলাম (২৫)। প্রতিবেদন দিতে দেরি হওয়ায় তিনি সেখানে চিৎকার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রথীন্দ্রনাথ মণ্ডল তাঁকে বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চিকিৎসকের চিৎকার শুনে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে এসে নাঈমকে আটক করেন। পরে তাঁকে সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চিকিৎসকেরা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন। দায়িত্ব পালনকালে একজন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ হেল মাফি বার্তা২৪.কমকে বলেন, হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে শুধু ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
