Published on
:
2 min read
দুর্গাপুজোর আনন্দ, উচ্ছ্বাস শুধু বাংলার মাটি নয়, ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ভারতে। কলকাতার পাশাপাশি দেশের অন্য যে কয়টি শহরে জাঁকজমক ভাবে পুজোর আয়োজন হয়, তার মধ্যে অন্যতম বেঙ্গালুরু। এই শহরের আইটি করিডোরে অর্থাৎ বলা যেতে পারে অফিস পাড়ায় অষ্টম বর্ষে পদাপর্ণ করল ‘কাব্য’ আয়োজিত দুর্গাপুজো।
নিজেদের শিকড়কে খুঁজে ফেরার চেষ্টায় পূর্ব বেঙ্গালুরুর কাদুবিসনাহাল্লিতে ২০১৯ সালে কয়েকটি পরিবার মিলে শুরু করে এই দুর্গাপুজো। ঘরোয়া আয়োজনে মিশে রয়েছে আন্তরিকতা। সময়ের দাবিতে ধীরে ধীরে ব্যাপ্তি বেড়েছে অনেকটাই।
এই পুজোয় ছোটদের নিয়ে পুরোপুরি বাংলায় একটা উপস্থাপনার আয়োজন থাকে। বড়দের জন্যেও থাকে কিছু না কিছু অনুষ্ঠান। কাব্য সদস্যদের বাইরেও আমন্ত্রিত শিল্পীরা আসেন। প্রতি সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর সকাল থেকে সুচারু ভাবে মায়ের পুজো, অঞ্জলি, ভোগের আয়োজন। এই ভাবেই পাঁচটা দিন চোখের নিমেষে কেটে যায়।
আয়োজকদের কথায়, অনুষ্ঠানের জন্য যে প্রাঙ্গণগুলো ভাড়া দেওয়া হয় তাদের আকাশছোঁয়া মূল্য আর আমিষ খাবারে বাধানিষেধ। এরপর আছে পুজোর সময়ে বৃষ্টির সমস্যা। বৃষ্টিতে বেঙ্গালুরুর অবস্থা খুব শোচনীয় হয় বলে দাবি। দশ মিনিটের বৃষ্টির পরেও জল জমে ট্রাফিক এমন বেহাল হয়, যে যার বাড়ি থেকে মণ্ডপে পৌঁছনো দুষ্কর হয়ে ওঠে। আয়োজকরা বলেন, ‘আমাদের কোনও সদস্যই তো কলকাতার পাড়ার পুজোর মতো পায়ে হাঁটা দূরত্বে থাকেন না। কম-বেশি দুই থেকে পাঁচ কিলোমিটার কিংবা তারও বেশি। এত কিছুর পরেও আমরা হাল ছাড়ি না। এই সবের পরেও আমরা চেষ্টা করি পুজো সামলেও কোন না কোন ভাবে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার।’
পুজোর আয়োজনের পাশাপাশি আয়োজকদের তরফে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভারত সেবাশ্রম বা রামকৃষ্ণ মিশনের মাধ্যমে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা, কখনও N.G.O-র মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করে যথাস্থানে পৌঁছনোর ব্যবস্থা বা একসঙ্গে কোনও আশ্রমে গিয়ে এক বেলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। পুজো শুরুর আগে থাকে টানটান উত্তেজনা আর পুজোর শেষে তৈরি হয় অজস্র সুখস্মৃতি। সেই স্মৃতি নিয়েই কেটে যায় বাকি বছরটা।
