কালবেলা · আন্তর্জাতিক
ড্রোনে করে আহত সেনাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করল ইউক্রেন
২০/১০/২০২৬

যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখসারিতে আহত এক সেনাকে আকাশপথে ড্রোনের সাহায্যে উদ্ধার করেছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়ে ঘটনাটিকে এ ধরনের প্রথম অভিযান বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেড। খবর বিবিসির।
ব্রিগেডটির প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন মাটিতে নেমে আসে। এরপর সামরিক পোশাক পরা এক ব্যক্তি ড্রোনে থাকা উইঞ্চের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন। পরে তাকে শূন্যে তুলে নেওয়া হয়। তবে কোথায় এ উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে, তা জানায়নি ব্রিগেডটি।
ইউক্রেনের ৯২তম পৃথক অ্যাসল্ট ব্রিগেডের ড্রোন ইউনিট ফেসবুকে জানায়, ‘অভিযান সফল হয়েছে, আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা গেছে। তিনি এখন চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিচ্ছেন। তার জীবন আর ঝুঁকির মধ্যে নেই।’
ড্রোনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুরজুফ ডিফেন্স জানিয়েছে, ওই সেনা প্রায় দেড় বছর ধরে বিপজ্জনক একটি যুদ্ধ অবস্থানে ছিলেন। প্রচলিত পদ্ধতিতে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছিল না।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘তার কাছে পৌঁছানোর যেকোনো চেষ্টা উদ্ধারকারী দলের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করত।’
এ কাজে ব্যবহার করা হয় ‘আয়ুদাগ-৬’ নামের ছয় পাখাবিশিষ্ট ড্রোন। গুরজুফ ডিফেন্স জানায়, ড্রোনটি আহত সেনাকে তুলনামূলক নিরাপদ একটি স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তার সহযোদ্ধারা অপেক্ষা করছিলেন। পরে তারা তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আহত সেনাদের সরিয়ে নিতে ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে চালকবিহীন স্থলযান ব্যবহার করে আসছে। তবে একই কাজে আকাশপথে ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানা গেছে। ৯২তম অ্যাসল্ট ব্রিগেডের ড্রোন ইউনিট অভিযানটিকে ‘বিশ্বে প্রথম’ বলে বর্ণনা করেছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে প্রায় সাড়ে চার বছরের যুদ্ধে উভয় পক্ষই ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহার করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, দুই পক্ষের বিপুলসংখ্যক যুদ্ধ ড্রোনের ব্যবহার সম্মুখযুদ্ধের এলাকাকে এমন এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত করেছে, যেখানে কোনো পক্ষই স্পষ্ট সুবিধা পাচ্ছে না।
সুত্র : বিবিসি
মূল প্রতিবেদনে যান ↗