Published on
:
2 min read
শৈশব বা কৈশোরে বন্ধু পাতানোটা খুব একটা কঠিন বিষয় ছিল না। স্কুলে একই বেঞ্চে বসা, একসঙ্গে টিফিন খাওয়া, কোচিং ক্লাসে যাওয়া কিংবা কলেজের কমনরুমে আড্ডা দেওয়া—নিয়মিত দেখা হওয়াটা যে হেতু প্রতিদিনের রুটিনের পর্যায়ে পড়ত তাই গোটা প্রক্রিয়াটাই খুব সহজ ছিল। কোনও বাড়তি অনুঘটক ছাড়াই বন্ধুত্ব গড়ে উঠত খুব স্বাভাবিক নিয়মে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের ব্যস্ততা, সাংসারিক দায়িত্ব এবং জীবনের নানান হিসাব-নিকাশের মাঝে নতুন বন্ধু তৈরি করা যেন এক পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। চারপাশে মানুষের অভাব না থাকলেও অনেক সময় মনের কথা বলার মতো একজন সৎ, নিরপেক্ষ মানুষ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু কেন বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে এবং এই নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে কী ভাবে নতুন ফ্রেন্ডশিপ সার্কল তৈরি করবেন? জানাচ্ছেন মনোবিদরা।
স্কুল বা কলেজে যৌথ চিন্তাভাবনা ও একই ধরনের জীবনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে, যা কর্মক্ষেত্রে সবসময় পাওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পিছনে ৩টি প্রধান কারণ রয়েছে।
সময়ের অভাব: অফিস, পরিবারের দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত কাজের পরে নতুন মানুষের সঙ্গে মেশার মতো সময় বা শারীরিক-মানসিক শক্তি অবশিষ্ট থাকে না। শৈশবের মতো দৈবাৎ বা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বন্ধু হওয়ার সুযোগ প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে মেলে না।
প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ অনেক বেশি সতর্ক ও সচেতন হয়ে পড়েন। ভবিষ্যতে কী হবে, এটা ভেবেই পিছিয়ে যান অনেকে। আবার অনেক সময় উল্টো দিকের মানুষটি প্রথম পদক্ষেপ করবেন, সেই অপেক্ষায় বসে থাকেন!
দূরত্ব: চাকরি, ঘর বদল, বিয়ে, এক শহর থেকে অন্য শহরে শিফট করা বা সন্তান হওয়ার মতো জীবনের বড় পরিবর্তনগুলো পুরোনো বন্ধুদের থেকে স্বাভাবিক ভাবেই দূরত্ব তৈরি করে।
নতুন করে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার সহজ উপায়
প্রথম দিকে নতুন কারও সঙ্গে কথা বলতে যাওয়াটা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তবে মাথায় রাখতে হবে, অপরপাশের মানুষটিও হয়তো আপনার মতোই একজন ভালো বন্ধুর খোঁজে রয়েছেন!
১. সাধারণ আগ্রহ বা শখ থেকে শুরু করুন: বুক ক্লাব, ওয়ার্কআউট বা যোগা ক্লাস, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় কাজ কিংবা কোনও ক্রাফটিং ওয়ার্কশপে যোগ দেওয়া। যখন একই বিষয়ের প্রতি অনুরাগী মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, তখন বন্ধুত্ব করার বাড়তি চাপ থাকে না।
২. প্রথম পদক্ষেপটি নিজেই নিন: সঙ্কোচ কাটিয়ে নিজেই কথা শুরু করুন। কোনও সহকর্মীকে কফির আমন্ত্রণ জানানো কিংবা কোনও ইভেন্টে গিয়ে সাধারণ কোনও প্রশ্ন দিয়ে আলাপ জমানো হতে পারে প্রথম ধাপ। শুরুতে কিছুটা আড়ষ্ট মনে হলেও অনুশীলনের মাধ্যমে এটি সহজ হয়ে যায়।
৩. সব সম্পর্কের ধরন এক নয়: প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের প্রতিটি বন্ধুকে ‘আজীবন সেরা বন্ধু’ বা ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ হতে হবে এমন কোনও নিয়ম নেই। কেউ হতে পারেন আপনার জিম পার্টনার, কেউ শুধুই উইকেন্ড-এ ঘুরে বেড়ানোর সঙ্গী। আবার কেউ বা কেবল পেশাগত আলোচনার বন্ধু। সব ধরনের সামাজিক সম্পর্কের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। মনের জানলা খোলা রাখলে নিঃসঙ্গতা অনেকটাই কেটে যায়।