কাঁধের সংযোগস্থলের চোট কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশের গতির ঝড় তোলা ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। এই চোটের কারণে আগামী নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হতে যাওয়া দুই টেস্টের সফর নিয়েও তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। এ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ।
শারীরিক অস্বস্তির কারণে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একজন কর্মকর্তা ক্রিকবাজকে নাহিদ রানার বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ধারণা করা হয়েছিল যে এই পেসার পিঠ ও পেলভিক (শ্রোণিদেশ) এলাকার দুর্বলতায় ভুগছেন। তবে বিসিবি বিস্তারিত জানার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া প্রথম টেস্টের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের দলে স্থান পাননি রানা। এবার পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে যেতে হলো তাকে।
বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা বিসিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, হ্যাঁ, তার ল্যাব্রাম টিয়ার ধরা পড়েছে। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় তাকে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে এবং তিনি তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আগামী শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকে তার বোলিং শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে রানা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন কি না, তা নিয়ে বিসিবি কর্তারা খুব একটা আশাবাদী হতে পারছেন না। আর দ্বিতীয় টেস্টে তার খেলা নির্ভর করবে তিনি কত দ্রুত সেরে উঠছেন তার ওপর।
সেই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে যদি তিনি সুস্থ হতে না পারেন, তবে ওই সফরের হোয়াইট বল (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) সিরিজ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন ঘটাতে পারেন তিনি।
উদীয়মান এই তরুণ পেসারের জন্য এটি আরও একটি বড় ধাক্কা। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরের সময় গ্রেড-টু সাইড স্ট্রেইন চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই দলে ফেরার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই পুরোনো চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফর, এশিয়ান গেমস এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে খেলা হয়নি তার। পরবর্তীতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলাকালীন নতুন করে গ্লুট ইনজুরিতে পড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেও বাদ পড়তে হয়েছিল তাকে।
আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর ১৫ নভেম্বর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সূচি রয়েছে, যেখানে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা।
সূত্র: ক্রিকবাজ।
