বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও সীমারেখা নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। তিনি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ত্বক প্রদর্শন বা খোলামেলা পোশাকে অভিনয় করতে তিনি স্বচ্ছন্দ নন। পরিচালকেরা তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন, এমন নির্মাতাদের সঙ্গেই কাজ করতে বেশি পছন্দ করেন তিনি।
‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমে স্বামী ও অভিনেতা বিজয় দেবরকোন্ডার সঙ্গে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন রাশমিকা। গত ২১ অক্টোবর প্রচারিত ওই পর্বে আলোচনায় উঠে আসে রাম চরণের ছবি ‘পেড্ডি’তে জাহ্নবী কাপুরের চরিত্রায়ণ। ছবিতে অভিনেত্রীকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, বিশেষ করে কয়েকটি দৃশ্যের ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক করণ জোহর জানতে চান, পর্দায় তার চরিত্র কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি সচেতনভাবে কোনো সীমারেখা বজায় রাখেন কি না। জবাবে রাশমিকা বলেন, সব ধরনের পোশাক বা ত্বক প্রদর্শনে তিনি স্বচ্ছন্দ নন। কোনো চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি বা এ ধরনের পোশাক পরার বিষয়টি সামনে আসলেও নিজের ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দিতে হয়।
রাশমিকার ভাষায়, কিছু বিষয় আছে যেগুলোতে তিনি স্বচ্ছন্দ নন। তিনি জানেন, কিছু চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি বা এ ধরনের পোশাক দরকার হতে পারে। কিন্তু সেখানেও অতিরিক্ত ত্বক প্রদর্শনে তিনি স্বচ্ছন্দ নন। তিনি সে ধরনের মানুষ নন।
বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয়ের সময় শিল্পীদের এমন পোশাক পরতে হতে পারে যা তাদের ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে মেলে না। তবে নিজের অস্বস্তির কথা জানানোর অধিকার অভিনেতাদের থাকা উচিত বলে মনে করেন রাশমিকা।
তিনি বলেন, নিজের জন্য কিছু সীমারেখা ঠিক করেছি যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিচালকেরা মেনে নেন। আমি এমন পরিচালকদের সঙ্গেই কাজ করতে পছন্দ করি।
আলোচনায় বিজয় দেবরকোন্ডা বলেন, শুটিংয়ের সময় এ ধরনের বিষয়ে কথা বলা সব সময় সহজ হয় না। রাশমিকাও স্বীকার করেন, নিজের আপত্তির কথা পরিচালকের কাছে তুলে ধরতে কখনো কখনো তার দ্বিধা হয়।
তিনি জানান, কোনো বিষয়ে কথা বলার আগে কখনো কখনো বিজয়ের সঙ্গে পরামর্শ করেন তিনি। বিজয় তাকে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে উৎসাহ দেন।
এ প্রসঙ্গে বিজয় বলেন, অভিনেতাদের পাশে এমন একটি সহায়ক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন যা তাদের অস্বস্তিকর কোনো দৃশ্যে অভিনয় করতে আপত্তি জানানোর সাহস জোগাবে।
তার কথায়, নিজের অবস্থানে অনড় থাকা এবং না বলা যে ঠিক, তা বোঝানোর জন্য প্রত্যেকেরই একটি সহায়তা ব্যবস্থা দরকার। কারণ, অনেক সময় তাদের বলা হতে পারে যে তুমি একজন অভিনেত্রী, এই ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছ, এটি কি তোমার কাজ নয়।
বিজয়ের মতে, এ ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়ে অনেক অভিনেতা-অভিনয়ী নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশয়ে ভোগেন। অপেশাদার হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কায় তারা কখনো কখনো অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোনো দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি হয়ে যান।
রাম চরণ অভিনীত পেড্ডি ছবিতে জাহ্নবী কাপুরের চরিত্রায়ণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবির কয়েকটি দৃশ্যে ক্যামেরার ব্যবহার এবং অভিনেত্রীকে উপস্থাপনের ধরন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দর্শকদের একাংশ।
এ নিয়ে বাণিজ্যিক সিনেমায় নারীদের উপস্থাপন এবং পর্দায় নিজেদের চরিত্রের ওপর অভিনেত্রীদের নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকা উচিত, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে জাহ্নবী ও কয়েকটি ফ্যান পেজের মধ্যে ব্যক্তিগত কথোপকথনের স্ক্রিনশট বলেও কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেগুলোতে ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ও চরিত্রায়ণ নিয়ে অভিনেত্রীর অসন্তোষ প্রকাশের দাবি করা হয়। তবে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত স্ক্রিনশটগুলোর বক্তব্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
গত ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে রাশমিকা ও বিজয় অভিনীত রণবালি। রাহুল সাংকৃত্যায়ন পরিচালিত পিরিয়ড অ্যাকশনধর্মী ছবিটি একই সময়ে মুক্তি পাওয়া রজনীকান্তের জেলার ২ এর সঙ্গে বক্স অফিসে প্রতিযোগিতায় রয়েছে।
স্যাকনিল্কের ২১ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে ছবিটির নেট আয় আনুমানিক ৩৬ কোটি ২০ লাখ রুপি। বিশ্বব্যাপী মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি ৪০ লাখ রুপি। এর মধ্যে ভারতের বাজার থেকে মোট আয় ৪২ কোটি ১৫ লাখ রুপি এবং বিদেশের বাজার থেকে ১০ কোটি ২৫ লাখ রুপি।
ছবিটি নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। বিজয় ও রাশমিকার অভিনয় এবং পর্দায় তাদের রসায়নের প্রশংসা করেছেন অনেকে। অন্যদিকে ছবির গতি, চিত্রনাট্য, অতিরিক্ত সহিংসতা ও আবহসংগীত নিয়ে সমালোচনা করেছেন কেউ কেউ।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
