কক্সবাজার থেকে অভিনব কায়দায় চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচারকালে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা মূল্যের চালানসহ তিন কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৭)।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে এসআরবি-৭-এর সহকারী পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
আরও পড়ুন
এসআরবি সূত্রে জানা যায়, মাদকের একটি বড় চালান কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংস্থাটির একটি দল জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ সংলগ্ন সরকারহাট গরুর বাজারের মেসার্স পেতান শাহ স্টোর অ্যান্ড সাপ্লাইয়ার্স দোকানের সামনে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায় এসআরবি।
অভিযানের একপর্যায়ে কক্সবাজারমুখী একটি নম্বরবিহীন সবুজ রঙের সিএনজিচালিত অটোরিকশা তল্লাশির জন্য থামানো হয়। এ সময় সিএনজিতে থাকা চালক ও যাত্রীদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে এসআরবি সদস্যরা তাদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে অটোরিকশাচালক ও তার সঙ্গে থাকা যাত্রী স্বীকার করেন যে, গাড়ির চালকের আসনের নিচে বিশেষ কায়দায় ইয়াবা লুকিয়ে রাখা হয়েছে। পরে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে ২৮ হাজার ৫৩০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়। জব্দ করা হয় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিটিও। জব্দ করা এই ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, অটোরিকশাচালক মো. সাকিব (১৯) এবং তার সহযোগী যাত্রী জাহিদুল ইসলাম (২০)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাদের দুজনেরই বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট এলাকায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন সীমান্ত রুট ব্যবহার করে চট্টগ্রামে মাদক সরবরাহ করে আসছিলেন।
এদিকে, একই দিন বিকেলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাছবাড়িয়া বাইন্যপুকুর পাড় এলাকায় আরেকটি পৃথক চেকপোস্ট বসায় এসআরবি-৭-এর আরেকটি দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেল চারটা ২০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী ‘মারসা পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস থামানো হয়। বাসে তল্লাশিতে মিলল আরও ৯ হাজার ইয়াবা।
পরে বাসটিতে যাত্রীবেশে থাকা মো. ফরহাদ-উজ-জামান জয় (৩৪) নামের এক সন্দেহভাজন যাত্রীকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৯ হাজার ৬২০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. ফরহাদ-উজ-জামান জয়ের বাড়ি পটিয়া উপজেলার পূর্ব মনসা এলাকায়। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে এসআরবি।
এসআরবি-৭ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। জব্দ ৩৮ হাজার ১৫০টি ইয়াবা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ আসামিদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আনোয়ারা ও চন্দনাইশ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে এসআরবি গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি।
আতিক/খাদিজা রুমি/
