অনলাইন ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। দীর্ঘদিনের শাসন শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিজেপি জয় পেয়েছে ২০৬ আসনে। বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে গেছে ৭৮টি আসন, আরও কয়েকটিতে তারা এগিয়ে ছিল।
এই নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজ আসন ভবানীপুরে পরাজয়। সেখানে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান তিনি। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামেও জয় পেয়েছেন শুভেন্দু। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে বিজেপি শিবির। কলকাতা থেকে জেলা শহরগুলো পর্যন্ত বিজয় মিছিল, আবির উৎসব ও মিষ্টি বিতরণে সরব হয়ে ওঠেন দলটির কর্মী-সমর্থকরা। সিঙ্গুর, মালদহসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিনব আয়োজনও দেখা যায়। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা এই জয়কে ‘বাংলার পরিবর্তনের রায়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ উন্নয়ন ও সুশাসনের পক্ষে রায় দিয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন, এই ফল ‘তোষণ ও ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণের জবাব’।
তবে নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, অন্তত শতাধিক আসনে অনিয়ম ও কারচুপি হয়েছে। তাঁর দাবি, কিছু কেন্দ্রে ভোট গণনায় অসঙ্গতি ছিল এবং দলীয় এজেন্টদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। কয়েকটি স্থানে তৃণমূলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও সামনে এসেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে কয়েকটি বিষয় বড় প্রভাব ফেলেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর), মুসলিম অধ্যুষিত আসনে ভোটের পরিবর্তন, নারী নিরাপত্তা ইস্যু এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান দলটির পক্ষে বড় ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীকে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী করা বিজেপির কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভারতের অন্য কয়েকটি রাজ্যের ফলেও চমক দেখা গেছে। আসামে আবারও সরকার গড়ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট। তামিলনাড়ুতে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল বড় সাফল্য পেয়েছে। আর কেরালায় জয় পেয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট।
