প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সন তারেক রহমান পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও কৃষক কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ভারতের কথা উচ্চারণ না করে বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সন তারেক রহমান পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও কৃষক কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ভারতের কথা উচ্চারণ না করে বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির অধিকার আদায়ে যত দূর যেতে হয়, সরকার সে চেষ্টা করবে। তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী মাদ্রাসা ময়দানে বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণ দানকালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও রাজনৈতিক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। এছাড়াও মঞ্চে ছিলেন অ্যাড. শফিকুল হক মিলন এমপি, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এমপি, আবু সাঈদ চাঁদ এমপি, মাহমুদা হাবিবা এমপি, বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. শাহীন শওকত, কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, আরডিএ’র চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-এ উন্নীত করা এবং পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে রাজশাহী অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার সমস্যা মোকাবিলায়ও খাল খনন ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন। রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে পানির সমস্যা সমাধান জরুরি। এ জন্য পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির অধিকার আদায়ে যত দূর যেতে হয়, সরকার সে চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজ শুরু ও শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি দাবি করেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন। এর সুফল প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ পেতে পারেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচসুবিধা সম্প্রসারণ ও পানির সংকট মোকাবিলায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বর্তমানে ১ হাজার ৩০০ শয্যা রয়েছে। সেটি ২ হাজার ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগের কথাও জনসভায় উল্লেখ করা হয়েছে। উপজেলা হাসপাতালের শয্যা ১৫০ করার পরিকল্পনা এবং এক বছরে আরো ৪৬টি বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে মানুষ ফল পাবে, ছায়া পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তা ভূমিকা রাখবে। খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মতো কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হলে জনগণই ক্ষতির মুখে পড়বে।
প্রধানমন্ত্রী জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা বাধাগ্রস্ত হতে দেয়া যাবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ঢাকার ওসমানী উদ্যানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—উভয়কেই ধারণ করে। জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার বিকাশের জন্য স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রয়োজন। একটি দোকানের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে যেমন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা তৈরি হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে তিনি ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য মোট ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। এছাড়াও তিনি রাজশাহী ধর্মসভায় হিন্দু সম্প্রদায়কে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান এবং কিছু আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
সৈয়দপুরে শিক্ষার্থীদের সাথে সেলফি তোলা ও উপহার প্রদান
মো: জাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নীলফামারীর সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে সেলফি তুলেছেন এবং ক্রীড়া সামগ্রী উপহার দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সৈয়দপুর বিমান বন্দরে নেমে গাড়ী বহর নিয়ে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তিনি কলেজের সামনে থেমে গাড়ি থেকে নেমে শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের সমস্যার কথা শুনেছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিষ্ঠানের ফটকের সামনে আসলে শিক্ষার্থীদের দেখে তিনি গাড়ী থামিয়ে তাদের সাথে কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের আবদার রাখতে তাদের সাথে সেলফি তুলে অটোগ্রাফ দেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির খোঁজ খবর নেন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে বেশ আন্তরিক ও আনন্দঘন কিছুটা মূহুর্ত কাটান। শেষে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার সামগ্রী উপহার দেন। এসময় আমরা কলেজের জন্য বালক ও বালিকা হোস্টেল, একটি বহুতল ভবন ও একটি অডিটরিয়াম এর জন্য দাবী জানাই।
এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অবগত আছেন বলে জানান। এই দাবীগুলো লিখিত আকারে দিলে তিনি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন। পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এসময় রাস্তার দুই পাশে নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে হাত নাড়িয়ে স্বাগত জানান।
রংপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে মতবিনিময়
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে দেশ থেকে স্বৈরাচার বিতাড়িত হয়েছে। আসুন মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেই। তিনি গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরে ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে শারদীয় দূর্গা উৎসবের মহা নবমীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে মতবিনিময়কালে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের ছাত্র-জনতা মিলে গণঅভ্যূত্থানের মাধ্যমে এদেশের মানুষের কাঁধে চেপে থাকা ফ্যাসিষ্ট স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছে। গণঅভ্যূত্থানে রাজপথে দেখেছি সকল ধর্মের মানুষের সম্মেলন হয়েছিল। দল, মত, বর্ণ, নির্বিশেষে রাজপথে নেমে এসেছিল তারা অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষ হাজার বছর ধরে শান্তিতে একত্রে বসবাস করে আসছে। সকল ধর্মের মানুষ মিলে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিল, রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। সকল ধর্মের মানুষ মিলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সারাদেশে সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। যারা এই সরকারের সদস্যদের ভোট দেননি, যারা দিয়েছেন সকল মানুষের জন্য সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে রংপুর নগরীর উন্নয়নে ১৮’শ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়নসহ গ্রামের মানুষের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ব্রীজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ পর্যায়ক্রমে আমরা গড়ে তুলবো। যেন রাষ্ট্রের সকল মানুষের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়। এই কাজ একত্রে করতে হবে, আমাদের ভেতরে ভেদাভেদকে ভূলে থাকতে হবে। সকলে হাতে হাত মিলিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুঃখ করে বলেন, বর্তমান সরকার যখন সকলকে নিয়ে চলতে চাইছে, তখন একটি মহল নানাভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আজকে পরিস্কারভাবে বিভ্রান্তি কারীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, মহান মুক্তিযুদ্ধকে একজন বিতর্কিত করতে চেয়েছিল, সেই ফলাফল শুভ হয়নি। দেশের মানুষ সেই ফলাফল বা উদ্দেশ্যকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। একইভাবে চব্বিশের গণঅভ্যূত্থানকেও কোন কোন মহল বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। আমি গণতন্ত্রকামী সকল মানুষকে সাথে নিয়ে বলতে চাই, দয়া করে চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানকে বিতর্কিত করবেন না। সংসদে প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন, আপনাদের কিছু বলার থাকলে তাদের মাধ্যমে সংসদে বলান। রাষ্ট্রের পক্ষে যেটি ভালো আমরা সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। আমরা অতীতের মত এমন পরিস্থিতি তৈরী না করি যেন আমাদের জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-চাকুরীতে ব্যাঘাত ঘটে।
তিনি বলেন, দেশকে স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে সরকার কাজ করছে। অতীতে যে রাজনীতি দেখেছি আমরা তার পরিবর্তন করতে চাই। এ পরিবর্তনের বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ, আমরা জনগণকে পাশে চাই। মন্দিরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্দিরের পেছনে একটি অবকাঠামো রয়েছে যেখানে অবস্থাপন্ন নয় এমন গ্রাম থেকে শহরে আসা মানুষ বিনামূল্যে অবস্থান করেন। সেই অবকাঠামোটির কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি, আরও কিছু অর্থের সংস্থান দরকার। আমি সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে বলেছি, আগামী ২ বছরের মধ্যে এই কাজটি যেন সম্পন্ন করা হয়। আমরা সকলের জন্য নিরাপদ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সহযোগিতা চাই।
এর আগে রংপুরের সদর উপজেলার পাগলাপীরে এক পথ সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলে দেশকে স্বাধীন করেছে। এখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার কাজও করতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেবে এটাই হওয়া উচিত সবার প্রত্যাশা।
কাল প্রধানমন্ত্রীর খুলনা-বাগেরহাট পরিদর্শন
খুলনা ব্যুরো
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা ও বাগেরহাটে প্রথমবারের মতো সফরে আসছেন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর)। সফরকালে হেলিকপ্টার থেকে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি মোংলা নৌঘাঁটিতে সভায় যোগ দেবেন তিনি। এছাড়া মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মোঃ উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ সফরসূচি জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন, দাকোপ উপজেলা ও মোংলা বন্দর এলাকায় নিñিদ্র নিরাপত্তায় ঢেকে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও রূপসা-পশুর অববাহিকায় সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন। সকাল ৯টায় বিমানবন্দরে পৌঁছে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। সকাল ১০টায় হেলিকপ্টার থেকে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন এলাকা পর্যবেক্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল সাড়ে ১০টায় পর্যবেক্ষণ শেষে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন তিনি। সেখান থেকে লঞ্চঘাটে গিয়ে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে নৌপথে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলার উদ্দেশে রওনা হবেন।
দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে বানৌজা মোংলার জেটিতে পৌঁছে ওয়ার্ড রুমের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১টায় মধ্যাহ্নবিরতির কর্মসূচি রয়েছে। এসময় খুলনার বিভাগীয় কমিশনার এবং খুলনা ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক উপস্থিত থাকবেন। পরে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় যোগ দেবেন তিনি। সফরসূচি অনুযায়ী, বিকাল ২টা ৪৫ মিনিটে মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শনের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকাল ৩টায় জেটিতে পৌঁছে সেটি পরিদর্শন করবেন। এরপর বিকাল সোয়া ৩টায় প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বিকাল সাড়ে ৩টায় অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। সফর শেষে বিকাল ৪টায় হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকাল ৫টায় তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
