লালনের গান জীবন ও মানুষকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার একটি দার্শনিক মাধ্যম বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে লালন সাঁইয়ের দর্শন ও সংগীতের বিশেষ তাৎপর্য তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের বাউলসংগীত, লোকসংস্কৃতি ও মানবতাবাদী দর্শনের অন্যতম পথিকৃৎ ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শন, মানবতাবাদী চিন্তা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং বাংলা লোকসংস্কৃতিতে তার অনন্য অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মনজুরুল করিম খান বলেন, লালন সাঁইয়ের গানে দেহতত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার মধ্য দিয়ে মানবদেহ, আত্মপরিচয় ও অন্তর্নিহিত সত্য অনুসন্ধানের ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে। তার গান কেবল সংগীত নয়; বরং জীবন ও মানুষকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার একটি দার্শনিক মাধ্যম।
এসময় অন্য বক্তারাও তাদের বক্তব্যে লালন সাঁইয়ের জীবনদর্শন ও সৃষ্টিকর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, লালন সাঁই তার গান ও দর্শনের মধ্য দিয়ে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার জয়গান গেয়েছেন। তার সৃষ্টিকর্ম মানুষে মানুষে সম্প্রীতি, সাম্য, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়। তার গান আত্মানুসন্ধান, মানবপ্রেম এবং মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তাকে উপলব্ধি করার এক অনন্য পথ নির্দেশ করে।
আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের গান পরিবেশন করেন সানওয়ে ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আবির হাসান রাফি এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরের কনস্যুলার অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রাজ্জাক রাজ।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সম্মানিত নেতৃবৃন্দ ও সদস্য, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আইজে
