ভোলার সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে নুরুল হক মুন্সী জামে মসজিদের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) নেতা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদের জমি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে অভিযুক্ত মনির হোসেনের দাবি, তার ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছিল বলেই তিনি তা ভেঙে দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত নুরুল হক মুন্সী জামে মসজিদের জমির সীমানা নিয়ে এ বিরোধের সূত্রপাত। মসজিদ কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মসজিদের সীমানা নির্ধারণ করে সেখানে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরে মনির হোসেন লোকজন নিয়ে এসে ওই সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলেন এবং জায়গাটি নিজের বলে দাবি করেন।
অভিযুক্ত মনির হোসেন পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) মালয়েশিয়া শাখার সহসভাপতি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুর রশিদ বলেন, এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় আমরা মসজিদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণ করেছিলাম। কিন্তু মনির হোসেন হঠাৎ লোকজন নিয়ে এসে বাউন্ডারি ভেঙে ফেলেন এবং জায়গাটি তাঁর নিজের বলে দাবি করছেন।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি মোশাররফ হোসেন বলেন, মনির নিজেকে মালয়েশিয়া শাখা বিজেপির সহসভাপতি পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একধরনের ত্রাস সৃষ্টি করে আসছেন। আজ তার এই অন্যায় ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে পবিত্র মসজিদের জমিও রক্ষা পেল না।
অপর মুসল্লি জোবায়ের ফরাজী অভিযোগ করে বলেন, বাউন্ডারি ভাঙার প্রতিবাদ করায় মনির উল্টো হুমকি দিয়ে বলেছেন, তিনি বেকু এনে পুরো মসজিদই গুঁড়িয়ে দেবেন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, মসজিদের সীমানার মধ্যেই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে মনির ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেই প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে, সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মনির হোসেন। তিনি বলেন, আমার জায়গায় প্রায় এক হাত পরিমাণ বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছিল, তাই আমি তা ভেঙে ফেলেছি।
সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, এখন সামাজিকভাবে সমাধান হলে ভালো। আর আপনারা যদি এটি নিয়ে নিউজ বা সংবাদ প্রকাশ করেন, তবে আমি আর কোনো সমাধানে বসব না।
এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, মসজিদের জমি ও সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে মসজিদের জমির সীমানা নির্ধারণ, স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
