দীর্ঘ ১০ বছর বন্ধ থাকার পর সবার জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে ঢাকার ওসমানী উদ্যান। ঢাকার ফুসফুস হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওসমানী উদ্যানে আনা হয়েছে নানা পরিবর্তন। আর এই পরিবর্তন করতে গিয়ে অনেক গাছ কাটা হয়েছে। এ নিয়ে পরিবেশবিদরা সমালোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, খাবার পরিসরসহ নানা সুবিধা যুক্ত করে নবরূপে সাজানো হয়েছে ওসমানী উদ্যান। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পার্কটি উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বাস্তবায়নাধীন এই পার্কটি প্রায় ২৩ একর জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে। ওসমানী উদ্যান নবরূপে বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ৯৯ দশমিক ৪৪ কোটি টাকা। যার ৯৫ শতাংশ সরকারি অর্থায়ন
এবং মাত্র ৫ শতাংশ দক্ষিণ সিটির নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করা হয়েছে।
উদ্যানের গাছ কাটা নিয়ে পরিবেশবিদদের সমালোচনার জবাবে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকৃতি ধ্বংস করে নয়, প্রকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিদ্যমান বড় গাছ ও জলাধার অক্ষুণ্ন রেখে পুরনো জলাশয়কে বক্ররৈখিকভাবে সম্প্রসারণ করে দুই স্তরের নতুন হ্রদ তৈরি করা হয়েছে। যার মাঝে বৃক্ষ ঘিরে রয়েছে সবুজ দ্বীপ। উদ্যানের মাত্র ৫ শতাংশ জায়গায় নির্মাণ সীমিত রাখা হয়েছে। সড়ক থেকে প্রায় ২ মিটার উঁচু স্তরে রয়েছে দ্রুত চলাচলের পথ। আর প্রায় ২ দশমিক ৫ মিটার নিচের স্তরে গাড়ি পার্কিং, খাদ্য পরিসর, পাঠাগার, ব্যায়ামাগার, গণশৌচাগার ও জলাশয়ের ঘাট রয়েছে।
এই ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ করা হয়েছে। এখানে আগে মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের বর্ণনা খচিত বোর্ড ছিল। কোন সেক্টর কোন এলাকা নিয়ে গঠিত, সেখানে কার নেতৃত্বে যুদ্ধ হয়েছিল তার বিস্তারিত বিবরণসহ বোর্ড ছিল। সংস্কার করতে গিয়ে তা তুলে দেওয়া হয়।
গতকাল রবিবার ওসমানী উদ্যান আধুনিকায়ন ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন বিষয়ে প্রস্তুতি সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, উদ্যানটি খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুনভাবে সাজানো এ উদ্যানে হাঁটার পথ, পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর সুবিধা, রেস্তোরাঁ, আধুনিক গ্রন্থাহার, শিশুদের খেলার স্থান, কৃত্রিম পানির ফোয়ারা ও মনোরম জলধারা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা উদ্যানটি এবং সেখানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশ শেষে একই দিন উদ্যানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
