সৌদি আরবে ‘অনৈতিক কাজে’ লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে শাহবাগে সমাবেশ হয়েছে।
শুক্রবার বিকাল ৫টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ এর সমাবেশে ওই ঘটনায় সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন বক্তারা।
সরকারের মন্ত্রীদের নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম সমাবেশে বলেন, “প্রবাসীদের বিনা বিচারে, বিনা নোটিসে বিচারের নামে হত্যা করে তাদের লাশ যখন বাংলাদেশে পাঠানোর পরিস্থিতি হয়েছে, তখন বাংলাদেশের মানুষ এদের কাছে যে প্রশ্ন তুলছে এবং একজন মন্ত্রী যে উত্তর দিচ্ছে, তা আগের ফ্যাসিস্ট সরকারগুলোর চাইতে অনেক বেশি নৃশংস। অনেক বেশি জঘন্য, অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, অনেক বেশি অপমানজনক।”
তিনি বলেন, “সরকারকে পরিষ্কার করে বলতে হবে, এই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যারা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের ব্যাপারে সরকার কী ভূমিকা নেয়? আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কী ভূমিকা নেয়, এইটা আমরা দেখতে চাই।
“যদি পদক্ষেপ না নেয়, এই সরকারের এই মন্ত্রীদেরকে পদ থেকে হটিয়ে দেওয়ার জন্যে, অপসারণের জন্যে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম শুরু করব।”
প্রবাসীদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রবাসে যারা আছেন, যারা মামলায় ভুগছেন, যারা বিভিন্ন হয়রানির শিকার হচ্ছে, তাদের পক্ষে আপনারা কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন, এইটা আগামী সাত দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে এবং প্রবাসীদের জানাতে হবে।
“অন্যথায় প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাবে কিনা সেটা তারা বিবেচনা করবে।”
নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অল্টারনেটিভসের সংগঠক তাসনূভা জেবিন বলেন, “সৌদি সরকার বাংলাদেশের দুইজন নাগরিকের শিরশ্ছেদ করার আগে কোনো ধরনের জবাবদিহিতার প্রয়োজন মনে করে নাই, কোনো ধরনের আইনের আওতায় আসার প্রয়োজন মনে করে নাই। আমরা ধিক্কার জানাই এটার।
“…যেই দেশে নারী শ্রমিককে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নারী শ্রমিককে নির্যাতিত করে, ধর্ষণ করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, সেই দেশ কীভাবে, কোন আইনের আওতায় বাংলাদেশের দুইজন নাগরিককে বাংলাদেশকে না জানিয়ে শিরশ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারে। এর জবাব বাংলাদেশের সরকারের অবশ্যই চাইতে হবে এবং আমরা বাংলাদেশ সরকারকে বাধ্য করব, যাতে তারা সৌদি সরকারকে এই জবাব চায়।”
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ওই দুজন জেলে থাকলেও কেন বাংলাদেশের তরফ থেকে আইনি সহায়তা পাননি সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাসনূভা জেবিন।
সমাবেশে তিনি বলেন, “কেন বাংলাদেশের একজন নাগরিক ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে জেলে আছে, আর একজন কনস্যুলেট তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নাই, কোনো ধরনের আইনি সহায়তা সে পায় নাই? এবং উল্টো সেটার প্রতিবাদ না করে, সেটার ধিক্কার না জানিয়ে আমাদের সরকার সেটা বলছে ‘পাপের লাশ’।”
সমাবেশে প্রবাসীদের সুরক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে গবেষক মাহা মির্জা বলেন, “প্রবাসী শ্রমিকরা শুধু মেশিনের মতো পশুর মতো টাকা বানানোর যন্ত্র নয়। তাদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। আমরা জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনাদের প্ল্যান কী? প্লিজ আমাদের জানান।
“এই জবাবদিহিতার আওতায় আনাটা খুব জরুরি, কারণ আমরা চাই না আগামী চার বছরে আবার ৩০ হাজার কফিন ফিরুক। আমরা চাই আমাদের প্রবাসী শ্রমিক ভাইয়েরা দূতাবাসের সাহায্য পাক, সরকারি সাহায্য পাক, যারা বিনা অপরাধে জেলে আছেন, দূতাবাসের কর্মীরা সেখানে গিয়ে তাদের লিস্ট করবে, ডেটাবেইজ করবে। আমরা যেন ঠিকঠাক তাদের দেশে ফেরত আনতে পারতে পারি এবং যে সমস্ত রিক্রুটিং এজেন্সি এরকম ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এবং ওখানে গিয়ে তাদের ছেড়ে দিচ্ছে, সেই সকল রিক্রুটিং এজেন্সিকে বন্ধ করতে হবে, দরকার হলে এই পুরো প্রক্রিয়াটাকে সরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে আনতে হবে।”
