কক্সবাজার প্রতিনিধি
আপডেট :
২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৩৪

সারা দিন আকাশে মেঘ, ভ্যাপসা গরম আর গুমোট আবহাওয়া। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে মাঝে মধ্যে রোদের দেখা মিললেও স্বস্তি নেই। এমন আবহাওয়ার মধ্যেও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের আনাগোনা থেমে নেই। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়ছে ভিড়।
আজ শনিবার সকাল থেকেই কক্সবাজারের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। দিনভর গুমোট আবহাওয়ায় জনজীবনে অস্বস্তি থাকলেও পর্যটকদের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে। কেউ সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতেছেন, কেউ বালুচরে ছবি তুলছেন, আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে চেয়ার-ছাতায় বসে সময় কাটাচ্ছেন।
সুগন্ধা সৈকতে পর্যটকদের সেবায় নিয়োজিত জেলা প্রশাসনের বিচকর্মীদের সহকারী সুপারভাইজার বেলাল হোসেন জানান, ‘শনিবার সারা দিন বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। অন্যদিনের তুলনায় পর্যটকের চাপ কম। তারপরও সৈকতের তিন পয়েন্টে ভিড় ছিল পর্যটকের।’
নরসিংদীর মনোহরদী সদর থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছেন চাকরিজীবী শিফাতুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে ভালো সময় কেটেছে। তবে আজ (শনিবার) আবহাওয়া অনুকূলে নেই। চেয়ার-ছাতার নিচে বসে উত্তাল ঢেউয়ের রূপ দেখে সময় কাটাচ্ছি।’
এই চাকরিজীবীর মতো দুই দিন আগে কক্সবাজার এসেছেন ফেনীর পরশুরাম থেকে ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক চৌধুরীর পরিবার। তিনিও লম্বা ছুটি কাজে লাগাতে সৈকতে এসেছেন। বেশ আনন্দ করেছে বাচ্চারা। তবে সম্প্রতি আগুন ও পানিতে ডুবে ১৫ পর্যটকের মৃত্যুতে মাহমুদুল হক চৌধুরী ব্যথিত বলে জানান। তিনি বলেন, সাগরের আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পর্যটকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও যেসব ঝুঁকির বিষয়গুলো উঠে আসছে, তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আবহাওয়া গুমোট থাকায় সাগরের পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে ঢেউয়ের প্রবণতা, জোয়ার-ভাটা ও আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের বিষয়ে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে।
সৈকতের লাবণী থেকে কলাতলী পর্যন্ত গোসলে নামা পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে সি-সেফ লাইফগার্ড। সংস্থাটির ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, সমুদ্রে নামার আগে সতর্কতা ও লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি নির্ধারিত নিরাপদ এলাকার বাইরে সাঁতার কাটতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে কক্সবাজারে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান।
এদিকে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের ফলে সৈকতকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যেও কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সৈকতের বিভিন্ন স্থানে খাবারের দোকান, বিচ বাইক, ফটোগ্রাফি ও পর্যটকসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

