Published on
:
2 min read
চিত্রদীপ চক্রবর্তী
রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির ইলেকট্রিক ম্যাপ–অ্যাপ ব্যবহার করে প্রথমবার একটি খুনের মামলার নিস্পত্তি হলো। অভিযুক্তকে দেওয়া হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের সুবুধীপুরে। স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক জেনে যাওয়ায় ২০২২–এর ৯ ফেব্রুয়ারি হাবিবুল্লা পাইক নামে এক ব্যবসায়ীকে দু'টুকরো করে খুন করেন অন্য এক ব্যবসায়ী। চার বছর ধরে মামলা চলার পরে বুধবার ওই খুনের মামলায় সাজা ঘোষণা করেন ডায়মন্ড হারবারের ফার্স্ট ট্র্যাক আদালতের বিচারক।
অভিযুক্ত আজগর লস্কর ছাড়াও আজাহার লস্কর এবং রবিউল সর্দারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত সূত্রের খবর, ঘটনার দিক সকালে এলাকার একটি জঙ্গল থেকে এক মধ্য বয়স্ক ব্যক্তির গলা কাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেখানে বেশ কিছু মদের বোতলও পাওয়া যায়। পরে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে ওই ব্যক্তির কাটা মুণ্ডু এবং মোবাইল ফোনটি উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিহত ব্যক্তির নাম হাবিবুল্লা পাইক। এরপরে অভিযুক্ত সন্দেহে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে আজগরকে জেরা করতেই পুরো ঘটনা সামনে আসে।
জানা যায়, তাঁর বাড়িতে স্বামী–স্ত্রীর ব্যবহারের জন্য একটি মোবাইল ফোন ছিল। বাইরে গিয়ে একাধিক দিন তিনি স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোন ব্যস্ত পেতেন। প্রথমদিকে সন্দেহ হলেও আজগর বিষয়টি বুঝতে পারছিলেন না। কিন্তু একদিন স্ত্রীকে কিছু না জানিয়ে তিনি ফোনের রেকর্ডিং অপশন অন করে রাখেন। আর তাতেই ধরা পড়ে যায় বিষয়টি। দেখা যায়, ওই ব্যবসায়ী কাজের জন্য বাইরে গেলে স্ত্রী নানা ধরনের গল্প শুরু করে দেন হাবিবুল্লার সঙ্গে। আর এ ভাবেই তাঁদের মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠে। ঘটনাটি জানতে পেরে স্ত্রীকে কিছু না জানিয়ে হবিবুল্লাকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বাকি দু'জনের সাহায্য নিয়ে ঘটনার দিন জঙ্গলে ডেকে নিয়ে গিয়ে হবিবুল্লাকে গলা পর্যন্ত মদ্যপান করান। তারপর হাসুয়া দিয়ে গলা কেটে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দুটো আলাদা জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা মদের বোতলের ব্যাচ নম্বরের মিল পায় স্থানীয় একটি অফ–শপ থেকে সে দিনের মদ বিক্রির কাগজপত্রে। তদন্তকারীরা দেখতে পান যে জায়গায় অর্থাৎ প্লেস অফ অকারেন্সে খুনটি করা হয়েছে, সেখানে একটি বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে।
ঘটনাস্থলটি আদালতের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য এ ক্ষেত্রে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের ইলেকট্রিক ম্যাপ–অ্যাপ ব্যবহার করে ওই খুঁটির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। আদালতে ওই সংস্থার বেশ কয়েক জন পদস্থ আধিকারিক বয়ানও দেন। মামলার সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'তথ্যপ্রমাণ এবং সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে আদালত তিন জনকে দোষী সাব্যস্ত করে।'