টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান কোন দেশ করেছে জানেন? গাম্বিয়ার বিরুদ্ধে জ়িম্বাবোয়ের ৩৪৪ রান। সেই ম্যাচেই সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ডও (২৯০ রান) গড়েছে জ়িম্বাবোয়ে। টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে অল্প রানে অল আউট হওয়ার রেকর্ড আইভরি কোস্টের। মাত্র ৭ রানে শেষ হয়ে গিয়েছে গোটা দল। সবচেয়ে বেশি টানা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জেতার রেকর্ড রয়েছে স্পেনের। টানা ২৪টি ম্যাচ জিতেছে তারা। এই সব রেকর্ডের কারণেই আইসিসি-কে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন সুনীল গাওস্কর। তাঁর মতে, মুড়ি-মিছরির এক দর হয়ে যাচ্ছে।
গাওস্করের মতে, আইসিসির উচিত সহযোগী সদস্য দেশগুলির করা রেকর্ড একটি আলাদা বিভাগে রাখা উচিত। পূর্ণ সদস্য দেশগুলির সঙ্গে তা মেলানো উচিত নয়। তিনি বলেন, “ফুটবল লিগে আমরা দেখেছি, বিভিন্ন ডিভিশনে অবমনন ও উন্নয়ন হয়। তাই কোনও রেকর্ড হলে সেটা কোন ডিভিশনে হয়, তা উল্লেখ করা থাকে। কিন্তু ক্রিকেটে তা হয় না। সেখানে বদল দরকার।”
ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটারের মতে, ক্রিকেটেও এই পদ্ধতি নেওয়া উচিত। গাওস্কর বলেন, “ক্রিকেটেও ডিভিশন অনুযায়ী ভাগ করা উচিত। পূর্ণ সদস্য ও সহযোগী সদস্যদের আলাদা বিভাগে রাখা উচিত। যখন বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় পূর্ণ সদস্য ও সহযোগী সদস্য খেলছে তখন তাদের রেকর্ড এক বিভাগে থাকলে সমস্যা নেই। কিন্তু সহযোগী সদস্য দেশগুলো যখন একে অপরের বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় খেলছে তখন তাদের ডিভিশন এ বা ডিভিসন বি-তে ভাগ করা উচিত।”
গাওস্করের মতে, পূর্ণ সদস্য দেশগুলির মধ্যে যে লড়াই হয়, তা সহযোগী সদস্য দেশগুলির মধ্যে হয় না। তা হলে সকলকে একসঙ্গে কী ভাবে রাখা যায়। তিনি বলেন, “সহযোগী সদস্য দেশের কোনও খেলোয়াড় যে সব ব্যক্তিগত রেকর্ড করছে, তার সঙ্গে পূর্ণ সদস্য দেশের খেলোয়াড়ের রেকর্ডের মান এক নয়। তার প্রধান কারণ, খেলার মান আলাদা। সহযোগী সদস্য দেশের খেলায় যে সব রেকর্ড হয়, তা পূর্ণ সদস্য দেশের খেলায় কখনওই হওয়া সম্ভব নয়। এটা আইসিসির মাথায় রাখা উচিত।”
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড ছিল যুবরাজ সিংহের। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তা তিনি করেছিলেন। সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন নেপালের দীপেন্দ্র ঐরি। মঙ্গোলিয়ার বিরুদ্ধে ৯ বলে অর্ধশতরান করেছেন তিনি। মায়ানমারের বিরুদ্ধে ভুটানের সোনম ইয়েশি ৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছেন। সেটাই ছোট ফরম্যাটে সেরা বোলিং। কিন্তু মঙ্গোলিয়া বা মায়ানমার তো আর ইংল্যান্ড নয়। সেই প্রশ্নই তুলেছেন গাওস্কর।
তবে নেপালকে ছোট করছেন না তিনি। গাওস্করের কথায়, “নেপাল অনেক উন্নতি করেছে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওরা ইংল্যান্ডকে প্রায় হারিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তারা যখন মঙ্গোলিয়া বা মায়ানমারের বিরুদ্ধে খেলছে তখন পরিস্থিতি আলাদা। সেই রেকর্ড কেন একসঙ্গে ধরা হবে?” প্রশ্ন তুলেছেন গাওস্কর।
