পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ধামরাই থানার সুতিপাড়া ইউনিয়নের ছোট কালামপুর এলাকায় বিল্লাল হোসেনের মালিকানাধীন অটোরিকশার গ্যারেজে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। কালো মুখোশ পরা ৮ থেকে ৯ জনের একটি সশস্ত্র দল গ্যারেজের পাশের ফাঁকা জায়গা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।
এ সময় ডাকাতেরা বিল্লাল হোসেনের বড় ভাই মুজিবর রহমানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে বিছানায় ফেলে রাখা হয় এবং গলায় রামদা ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে ডাকাত দল গ্যারেজ থেকে চারটি ইজিবাইক, বিভিন্ন ইজিবাইক থেকে খুলে নেওয়া ২৭টি ব্যাটারি, সিসি ক্যামেরার ডিভিআর মেশিন ও নগদ টাকাসহ মোট ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল লুট করে। পরে একটি পিকআপ ভ্যানে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। এ ঘটনায় গত ১১ সেপ্টেম্বর ধামরাই থানায় ডাকাতির মামলা করা হয়।
মামলা দায়েরের পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্তের দায়িত্ব পান ধামরাই থানার এসআই এস এম কাওছার সুলতান। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে তিনি ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করেন। কোনো প্রত্যক্ষ সূত্র না থাকায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ তদন্তের পর গত ২৩ অক্টোবর ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে এসআই কাওছার সুলতানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কদমতলী খালপাড় এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে কথিত চক্রের সদস্য সোহেল (৩০) ও ইমাম হোসেন শাওনকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ওই এলাকা থেকে লুণ্ঠিত তিনটি তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অটোরিকশাগুলোর আনুমানিক মূল্য দুই লাখ ২০ হাজার টাকা।
এরপর অভিযান অব্যাহত রেখে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য মো. সবুজকে (২৯) তাঁর বর্তমান ঠিকানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সোনারগাঁ থানার কাঁচপুর খাসপাড়া এলাকা থেকে হাবিবুর রহমান ওরফে রনক ওরফে রনিকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রনিকে জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ন-১৩-৬১৫৮ নম্বরের একটি ছয় চাকার পুরোনো পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়। পিকআপটির আনুমানিক মূল্য নয় লাখ টাকা।
ধামরাই থানা পুলিশ জানিয়েছে, এসআই এস এম কাওছার সুলতানের নেতৃত্বে পরিকল্পিত অভিযান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চারজনকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের এ অভিযানে ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি লুণ্ঠিত সম্পদের একটি অংশ উদ্ধার হওয়ায় ভুক্তভোগীর ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তবে লুণ্ঠিত অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং মামলার তদন্ত শেষ হলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
The post ধামরাইয়ে এসআই কাওছারের নেতৃত্বে ধামরাইয়ের ৪ ডাকাত গ্রেফতার, বিপুল মালামাল উদ্ধার appeared first on ভোরের চেতনা.
