Published on
:
2 min read
এক নাবালকের আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশের ‘অত্যাচারে’র অভিযোগ উঠল। পুলিশের ‘নির্যাতন’ সহ্য করতে না পেরেই ওই নাবালক আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এর পরেই স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন। কেরালার ত্রিশূরের ঘটনায় ‘সুয়ো মোটো’ মামলা দায়ের করেছে ওই কমিশন।
পুলিশ এবং কেরালার শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন ( Kerala State Commission for Protection of Child Rights) সূত্রে খবর, ত্রিশূর (Thrissur) জেলার দুই ভাইকে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে গত ৬ অক্টোবর আত্মহত্যা করে মহম্মদ আসলাম (১৮) নামে এক নাবালক। আসলামকে পাঠানো হয় জুভেনাইল হোমে। চারদিন পরে জামিনে ছাড়া হয় তাঁকে। এর পরেই আত্মঘাতী হয় সে। এর পরেই তার মৃত্যুর জন্য পুলিশকে দায়ী করে পরিবার। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কেরালার শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন।
বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে কেরালা রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন। মঙ্গলবার, বিবৃতি দিয়ে ওই কমিশন জানিয়েছে, আসলামের বাবা নওশাদ অভিযোগ করেছেন যে কোডুঙ্গাল্লুর (Kodungallur) পুলিশ একটি প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তাঁর ছেলেকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। এরই সঙ্গে আসলাম শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার বলেও অভিযোগ তাঁর।
নওশাদ দাবি করেন, তাঁর ছেলে কোনও অন্যায় বা অপরাধ করেনি। তার পরেও মিথ্যা মামলায় ধরে নিয়ে প্রচণ্ড মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয় তাঁর ছোট ছেলেকে। ভাইয়ের ওপর হওয়া অত্যাচারের দৃশ্য সহ্য করতে না পেরেই আসলাম অপরাধের কথা স্বীকার করে। তিনি দাবি করেন, আদালতে হাজির করার আগে পুলিশ তাঁর বড় ছেলেকে প্রায় তিন দিন নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল। অন্যদিকে, নাবালক ছেলেটিকে হাজির করানো হয় জুভেনাইল ন্যায়বিচার বোর্ডের (Juvenile Justice Board) সামনে। এর পরেই কোডুঙ্গাল্লুর-এর এরিয়াদের বাসিন্দা আসলাম আত্মঘাতী হয়।
ওই কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করেছে তারা। এই জন্য ত্রিশূর জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিকের কাছেও রিপোর্ট তলব করেছে ওই কমিশন।
অন্য দিকে, পুলিশ জানিয়েছে, এক নাবালিকাকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছিল নাবালকের বিরুদ্ধে। তাকে হেনস্থা করার পাশাপাশি ব্ল্যাকমেল করে নাবালিকার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১৬০ গ্রাম সোনা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিল ওই নাবালক বলেও অভিযোগ। টাকা না দিলে নাবালিকার ব্যক্তিগত ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এই নিয়ে তাঁদের কাছে উপযুক্ত প্রমাণ আছে বলে দাবি করেছেন ওই নাবালিকার দিদি।
ওই সোনার একটি অংশ বিক্রি করে একটি দামী গাড়ি কেনার পাশাপাশি এক বন্ধুর বোনের বিয়েতে ২ লক্ষ টাকা দিয়েছিল অভিযুক্ত নাবালক বলেও দাবি পুলিশের। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সেখানকার পুলিশ আধিকারিকরা।
