আধুনিক কৃষিশিল্পের উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীনের কৃষি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এ লক্ষ্যে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য উন্নয়ন ব্যুরোর আয়োজনে গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ-চীন আধুনিক কৃষিশিল্প সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপন অনুষ্ঠান’।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ প্রায় ১৫০ জন অংশগ্রহণ করেন। এতে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যবিষয়ক কাউন্সেলর সং ইয়াং।
শতাধিক বাংলাদেশি ক্রেতা ও চীনের ২০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ
‘ফার্ম টু ফুড বাংলাদেশ ২০২৬’ প্রদর্শনীর পাশাপাশি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ১০০ জনেরও বেশি পেশাদার ক্রেতা এবং চীনের ২০টিরও বেশি স্বনামধন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানের বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উপস্থাপনা পর্বে বাংলাদেশ ফল, শাকসবজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানিকারক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোবাসসেরুর রহমান বাংলাদেশের বাজারের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশের বাজারের চাহিদা, ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো সম্পর্কে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। পাশাপাশি নিউ হোপ লিউহে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি দেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
কৃষিপ্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিতে সহযোগিতার আগ্রহ
অনুষ্ঠানে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, উদ্ভাবনী সমাধান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল চীনের ছিংদাও প্ল্যানটেক যন্ত্রপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, হেংগার উৎপাদন ও যন্ত্রপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, হুনান নংইউ যন্ত্রপাতি গোষ্ঠী এবং ফুচিয়ান সানশিন প্রযুক্তি গোষ্ঠী।
এসব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, কৃষিযন্ত্রপাতি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দুই দেশের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক বৈঠক। এসব বৈঠকে বীজের জাত উন্নয়ন ও উৎপাদন, কৃষিযন্ত্রপাতি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামসহ আধুনিক কৃষিশিল্পের বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পাশাপাশি পণ্য সরবরাহ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং পারস্পরিক ব্যবসায়িক সহযোগিতার বাস্তব দিকগুলো নিয়েও মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।
সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠক দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ জোরদার এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের সুযোগ সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি বিনিময়ে নতুন দিগন্ত
এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও চীনের আধুনিক কৃষিশিল্প খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের একটি কার্যকর মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে।
এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষিযন্ত্রের সহজলভ্যতা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশের বাজার সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ বাড়বে।
সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ-চীন আধুনিক কৃষিশিল্প সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপন অনুষ্ঠান দুই দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
