অনলাইন ডেস্ক
বর্তমান ব্যবস্থায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা নেই। ফলে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ কম থাকে। নারী অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছেন, যাতে তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রীয় সংস্কার আলোচনায় নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব সামনে আসে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে একমত হতে পারেনি। কেউ কেউ সরাসরি নির্বাচনের পক্ষে, আবার কেউ সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছে।
সংবিধান সংস্কার কমিশন: নারী আসন ১০০টিতে উন্নীত করে নির্দিষ্ট এলাকায় কেবল নারী প্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব।
নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন: ৪০০ আসনের মধ্যে ১০০টি নারী আসন ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন: প্রাথমিকভাবে সংরক্ষিত আসন বিলুপ্ত করে প্রতিটি দলে নারী প্রার্থী অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেয়, কিন্তু ঐক্যমত্য হয়নি। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে নারী প্রার্থী মনোনয়ন ৫% থেকে ৩৩% পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়।
নারী অধিকারকর্মীদের ক্ষোভ
নারী অধিকার কর্মী ও সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী অভিযোগ করেন, ঐকমত্য কমিশনে কোনো নারী প্রতিনিধি ছিল না। নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সরাসরি নির্বাচনসংক্রান্ত প্রস্তাবও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সংসদে নারীর উপস্থিতির ইতিহাস
১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদে ১৫টি সংরক্ষিত আসন দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। সময়ের সাথে আসনসংখ্যা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে—কখনো সংখ্যা বাড়ানো, কখনো মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাতিল হওয়া, আবার নতুন করে সংযোজন। বর্তমানে ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে, যেগুলো দলীয় আনুপাতিক ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত
বিএনপি: ১০০ সংরক্ষিত আসন, দলীয় আসনসংখ্যার ভিত্তিতে বণ্টন।
জামায়াতে ইসলামী: ৪০০ আসন, এর মধ্যে ১০০ নারী আসন, পিআর পদ্ধতিতে।
এনসিপি: ১০–১৫% নারী প্রার্থী মনোনয়ন, পরাজিতদের মধ্যে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত ১০০ জনকে সংরক্ষিত আসনে নেওয়া।
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব
সংসদে আসনসংখ্যা ৬০০ করার এবং এর মধ্যে ৩০০ আসন নারীদের জন্য সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব দেয়। তবে এটি বাস্তবসম্মত নয় বলে রাজনৈতিক দলগুলো মত দেয়।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাধা
এনসিপি’র সামান্তা শারমিন বলেন, সরাসরি নির্বাচনের প্রতি অনাগ্রহের বড় কারণ দীর্ঘদিনের দলীয় সংস্কৃতি—যেখানে অর্থ, প্রভাব ও পারিবারিক পৃষ্ঠপোষকতায় প্রার্থী নির্বাচন হয়। এই সংস্কৃতি পরিবর্তন ছাড়া নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব নয়।
সীমিত ভূমিকা ও সমালোচনা
সংরক্ষিত আসনের অনেক নারী সংসদ সদস্য সংসদে শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সক্রিয় ভূমিকা খুব কম দেখা যায়। এমনকি আলোচিত নারী নির্যাতনের ঘটনাতেও অনেকেই নীরব থেকেছেন।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব শোনেনি। এ দাবিকে সামনে এগিয়ে নিতে নাগরিক সমাজের সক্রিয় হওয়া জরুরি।
