রাজশাহী নগরীর ছোটবনগ্রামে অবস্থিত জামি‘আ রহমানিয়া মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের মামলায় মাদ্রাসাটির সাবেক মুহতামিম (পরিচালক) মাওলানা আব্দুল জব্বার মাহমুদ ওরফে জিহাদীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত। করা হয়েছে। গতকাল রোববার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর রাজশাহী মহানগরীর ছোটবনগ্রাম এলাকায় অবস্থিত জামি‘আ রহমানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে মাওলানা জিহাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ দেখা দেয়। অভিযোগ ছিল, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ আনুকূল্য, প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কোমলমতি শিশুদের যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। রমজান মাসে ইতিকাফ চলাকালে মসজিদের ভেতরে এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির জরুরি বৈঠকে মাওলানা জিহাদীকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)-তে স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে মামলাটি তৎকালীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। পরে আদালত ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণসহ বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এরপর গতকাল বিকেল ৩টার দিকে আদালত আসামি আব্দুল জব্বার মাহমুদ ওরফে জিহাদীকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করে আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইমতিয়ার মাসরুর আল আমিন জানান, ‘যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা জিহাদীর বিরুদ্ধে একাধিক শিশু বলাৎকারের অভিযোগ ছিল। এরমধ্যে চারজন শিশু সরাসরি তার দ্বারা বলাৎকারের শিকার হয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।’
জামি‘আ রহমানিয়া মাদ্রাসার বর্তমান মুহতামিম মাওলানা সাইদুজ্জামান বলেন, ‘এ মামলা পরিচালনা করতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আদালতের রায়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা সন্তুষ্ট। এ রায়ের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে তারা আশা করছেন।’
মাওলানা সাইদুজ্জামান অভিযোগ করে জানান, মাদরাসার প্রায় ৬৬ লাখ টাকা বাজারমূল্যের জমি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে দলিল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মাওলানা জিহাদীর বিরুদ্ধে। এছাড়া মাদ্রাসার জমি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের করা আরও তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
