মেহেরপুর নিউজ :
নতুন ভোটার হতে এসে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ। সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন ছাড়াই আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত নতুন ভোটারদের ছবি তোলা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজা। এতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসা নতুন ভোটারদের ছবি না তুলেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ছুটি নিয়ে নির্বাচন অফিসে এসেও সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে এসে বারবার হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। কেউ কেউ দূরের এলাকা থেকে যাতায়াতের খরচ ও সময় ব্যয় করে অফিসে আসছেন। কিন্তু ছবি তোলার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে। কবে ছবি তোলা হবে, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফোনকলের। এতে নতুন ভোটার নিবন্ধনের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়ে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, প্রতিনিয়ত গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও দূরবর্তী এলাকা থেকে নতুন ভোটার হতে আসছেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করছেন। অনেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার আশায় নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অফিসে হাজির হচ্ছেন। তবে ছবি তোলার কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্বাচন অফিসে গেলে প্রথমে তাদের ফাইল জমা নেওয়া হচ্ছে। এরপর ছবি তোলা ছাড়াই বাড়ি ফিরে যেতে বলা হচ্ছে। পরে ফোন করে ছবি তোলার তারিখ জানানো হবে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে নির্দিষ্ট দিনে ছবি তোলার জন্য এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। পরবর্তী সময়ে আবার অফিসে আসতে হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন নতুন ভোটাররা।
গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে ছবি তুলতে আসা কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছুটি নিয়ে তারা নতুন ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এসেছিলেন। কিন্তু অফিসে যাওয়ার পর তাদের ফাইল জমা নিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে ফোন করে ছবি তোলার তারিখ জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কারণে প্রতিদিন ইচ্ছা করলেই বাড়িতে আসা সম্ভব হয় না। একদিনের জন্য ছুটি নিয়ে নির্বাচন অফিসে এসে ছবি তুলতে না পারলে পড়াশোনার ক্ষতি হয়। আবার পরবর্তী সময়ে ছবি তোলার জন্য আসতে হলে নতুন করে ছুটি নিতে হবে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে। আগে থেকে কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি জানানো হলে তারা অযথা ভোগান্তিতে পড়তেন না।
ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, নতুন ভোটারদের ছবি তোলার কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা আগে থেকে জানানো হচ্ছে না কেন? সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন বা লিখিত নির্দেশনা না থাকলে কোন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ছবি তোলা বন্ধ রাখা হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান তারা। তাদের মতে, নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে আসা নাগরিকদের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানানো হলে এ ধরনের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, আগামী ২ নভেম্বরের আগে নতুন ভোটারদের ছবি তোলা সম্ভব নয়। তবে কী কারণে এ সময়ের মধ্যে ছবি তোলা সম্ভব হবে না, সে বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়টি নিয়ে মেহেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা একরামুল হকের জানান, গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে কেন নতুন ভোটারদের ছবি তোলা হচ্ছে না, তা খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল কাদের জানান, নতুন যারা ভোটার হবেন, তাদের ছবি তোলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে ছবি তোলা বন্ধ রাখার বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
The post প্রজ্ঞাপন ছাড়াই ছবি তোলা বন্ধ ; গাংনী নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটারদের ভোগান্তি appeared first on Meherpur News.
