বাংলার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অভিষেক পোড়েলকে নতুন জীবন দিল ২২ গজ। ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় সামলে মাঠে ফেরা তরুণ ক্রিকেটার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দশম শতরান পেয়ে গেলেন দিল্লির বিরুদ্ধে মরসুমের প্রথম রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে। তাঁর এবং সুদীপ ঘরামির জোড়া শতরানের সুবাদে কল্যাণীতে দ্বিতীয় দিনের শেষে আয়ুষ বাদোনিদের বিরুদ্ধে সুবিধাজনক জায়গায় অভিমন্যু ঈশ্বরণের দল।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত অভিষেক। প্রাক্তন বান্ধবীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হন বাংলার অন্যতম প্রতিভাবান ক্রিকেটার। বেশ কিছু দিন পুলিশ এবং জেল হেফাজতে কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন। ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় যে তাঁর ক্রিকেটীয় দক্ষতায় প্রভাব ফেলতে পারেনি, তা প্রমাণ করে দিলেন প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে নেমেই।
বাংলার ক্রিকেটমহল একসময় অভিষেককে নিয়ে বেশ উদ্বেগে ছিল। আইনি জটিলতার মধ্যেও মানসিক ভাবে যতটা সম্ভব পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়-সহ সিএবি কর্তারা। পাশে ছিলেন বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লও। দিল্লির বিরুদ্ধে অভিষেকের শতরান বাড়তি স্বস্তি দিচ্ছে লক্ষ্মীকে। দিনের খেলা শেষ হওয়ার পর আনন্দবাজার ডট কম-কে লক্ষ্মী বলেছেন, ‘‘অভিষেক যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, সেখান থেকে এই প্রত্যাবর্তন ভাবা যায় না। ও যাতে মানসিক ভাবে ঠিক থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হয়েছে আমাকে।’’
শতরানের পর সুদীপ ঘরামি।
বাংলার ক্রিকেটকর্তা, কোচ, সতীর্থেরা যে আস্থা রেখেছিলেন, সুযোগ পেয়েই তার মর্যাদা দিলেন অভিষেক। গ্রেফতারির কারণে বেশ কিছু দিন ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্রিকেটারকে। অনুশীলনও করতে পারেননি। পরিস্থিতি তাঁর অনুকূলে ছিল না। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর অনুশীলন শুরু করেন। ব্যক্তিজীবনের বিতর্ককে পিছনে ফেলে মন দেন প্রস্তুতিতে। বাংলার হয়ে একটি প্রাক্-মরসুম প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেই নেমে পড়েছেন রঞ্জি ট্রফিতে। তার উপর প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ দিল্লির মতো শক্তিশালী দল। অভিষেককে আটকানো যায়নি। বাংলা, আইপিএল, ভারত ‘এ’ দলের হয়ে খেলা অভিষেক লড়াকু খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। সাহসীও। কঠিন পরিস্থিতিতেও হাল ছাড়েন না। শেষপর্যন্ত চেষ্টা করে যান পরিশ্রমী তরুণ। কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা, হাল-না-ছাড়া মনোভাবই অভিষেকের এই প্রত্যাবর্তনের চাবিকাঠি। জামিনে মুক্ত ক্রিকেটারকে দলে রাখতে দ্বিধা করেননি বাংলার নির্বাচকেরাও। অভিষেক আইনের লড়াইয়ে এখনও নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে পারেননি। তবে চাপ সরিয়ে ২২ গজে এ ভাবে ফিরে এসে আরও এক বার লড়াকু চরিত্রের প্রমাণ দিলেন।
অভিষেকের ১১৪ এবং ঘরামির ১২২ রানের অপরাজিত ইনিংসের সুবাদে দিল্লিকে প্রথম ইনিংসে পিছনে ফেলে দিয়েছে বাংলা। ১০৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া বাংলাকে সোমবার খেলার শেষে স্বস্তিতে রেখেছে তাঁদের ব্যাট। দিল্লির ২৪০ রানের জবাবে বাংলার রান ৩ উইকেটে ৩০৪। ৬৪ রানে এগিয়ে গিয়েছেন ঈশ্বরণেরা। ম্যাচ ড্র হলেও বাংলার ৩ পয়েন্ট পাওয়া নিশ্চিত। ওপেন করতে নেমে অধিনায়ক ঈশ্বরণ করেছেন ৩৪। অন্য ওপেনার অঙ্কুর পাল (১৭) এবং চার নম্বরে নামা সুদীপ চট্টোপাধ্যায় রান পাননি। তা-ও অভিষেক-ঘরামি জুটির ১৯৯ রানের জুটি চনমনে রেখেছে বাংলাকে।
