কুষ্টিয়ার মিরপুরে অনুমোদনহীনভাবে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য প্যাকেটজাত ও পণ্যের গায়ে মেয়াদসংক্রান্ত সিল দেওয়ার অভিযোগে একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, প্যাকেটজাত করার মেশিন ও সিলপ্যাড জব্দ করা হয়। পরে গোডাউনটি সিলগালা করে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের চার মাইল বাজার এলাকায় মোহাম্মদ রবিউল ইসলামের গোডাউনে এ অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গোডাউনে বিভিন্ন পণ্য প্যাকেটজাত করার সরঞ্জাম এবং পণ্যের গায়ে মেয়াদসংক্রান্ত সিল দেওয়ার নমুনা পাওয়া যায়। এ ছাড়া বিএসটিআইয়ের অনুমোদিত সিল ব্যবহারের সরঞ্জামও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে পণ্য প্যাকেটজাতকরণ, সিলের ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বৈধতা যাচাই করা হবে।
অভিযান শেষে কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, প্যাকেটজাত করার মেশিন ও সিলপ্যাড জব্দ করা হয়। পরে গোডাউনটি সিলগালা করে এর দায়িত্ব স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু জানান, গোডাউনে থাকা পণ্যের গুণগত মান যাচাই করতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা নেওয়া হবে। গোডাউন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার ও কর্মচারীদের পণ্য প্যাকেটজাতকরণ ও সিল দেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে গোডাউনে থাকা পণ্য বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোডাউনের মালিক রবিউল ইসলাম দাবি করেন, তিনি খুলনার একটি ডিপো থেকে পণ্য এনে স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য গোডাউনে রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি তাঁকে সব বৈধ কাগজপত্র থাকার কথা জানিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেসব কাগজপত্র দেখাতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রবিউল ইসলাম আরও জানান, পণ্যগুলো সম্প্রতি গোডাউনে আনা হয়েছে। একটি কার্টনে থাকা পণ্য ৮৫০ টাকায় বিক্রির পরিকল্পনা ছিল তাঁর। তাঁর দাবি, ওই প্যাকেটে চার কেজি চাল, এক কেজি মসুর ডাল, এক কেজি লবণ, ৫০০ গ্রাম চিনি, এক কেজি সয়াবিন তেল, সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার, গুঁড়া মসলা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থ ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় সচেতন মহলও প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, পণ্যের মান, মেয়াদ ও বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
তবে পণ্যের মেয়াদসংক্রান্ত সিল ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট পণ্য, সিল ব্যবহারের অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
