ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এবং বৃহত্তর শান্তি আলোচনার পথ তৈরি করতে রাশিয়ায় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছান তিনি। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার নরওয়েতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক শেষে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন উইটকফ। সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকোভো বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান রুশ প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, বুধবার দিনের প্রথমার্ধে পুতিনের সঙ্গে উইটকফের বৈঠক হওয়ার কথা।
মঙ্গলবার নরওয়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন এক কর্মকর্তা। সিএনএনকে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইউক্রেন নতুন কিছু ধারণা ও প্রস্তাব তুলে ধরেছে, যা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখন শক্তিশালী ঐকমত্য রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আলোচনায় একটি বিস্তৃত শান্তি কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সমৃদ্ধির পরিকল্পনা এবং ইউরোপে স্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামো।
শান্তি আলোচনায় ইউক্রেন ও তার মিত্ররা কিয়েভের কয়েকটি মৌলিক অবস্থানের ওপরও জোর দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে রাশিয়ার নতুন করে হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করা।
অন্যদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের পুরো এলাকা ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। অঞ্চলটির বেশির ভাগ অংশ বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং দেশটির ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার অঙ্গীকারও চায় মস্কো।
মঙ্গলবার জেলেনস্কি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাঁদের কিছু সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে এবং এ প্রচেষ্টায় ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ। এসব প্রস্তাব রাশিয়ার কাছে তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পুতিন কী বলেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, ইউক্রেন ও ইউরোপের সঙ্গে আলোচনায় অর্জিত অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা এবং সরাসরি ত্রিপক্ষীয় ও বৃহত্তর বহুপক্ষীয় আলোচনার পথ তৈরি করাই উইটকফের সফরের লক্ষ্য।
তবে আলোচনার বিষয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ তুলনামূলক কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, উইটকফ কী প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তা মস্কো দেখবে; তবে কোনো ‘রাজনৈতিক ছাড়’ দেওয়া হবে না। তাসের বরাতে ল্যাভরভ আরও বলেন, তাঁরা কোনো অলৌকিক ফল আশা করছেন না। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ যা হতে পারে, তা হলো রাশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী।
অসলোতে অবস্থানরত এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, শান্তি পরিকল্পনা থাকা বা না থাকার চেয়ে বড় সমস্যা হলো—রাশিয়া কোনো পরিকল্পনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে কি না।
এদিকে, শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও যুক্ত রয়েছেন। ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ায় রাশিয়ায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে তিনি সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারবেন না; দূর থেকে এতে অংশ নেবেন।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/
