জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের দৌঁড়ে প্রার্থী ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমিরাতের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লানা নুসেইবেহ-কে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছে আবুধাবি।
মূলত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ৬ দফা ভোটাভুটির পরও পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে মহাসচিব পদে নুসেইবেহর প্রার্থিতাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন আরব আমিরাতের লানা নুসেইবেহ। বুধবার (২১ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মনোনয়ন দেয়ার পর তিনি এ ঘোষণা দেন।
এক বিবৃতিতে নুসেইবেহ বলেন, আমার পেশাগত জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে জাতিসংঘের ভেতরে ও এর কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থেকে কাজ করে। অটল ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কূটনীতি কী অর্জন করতে পারে, তা আমি সরাসরি দেখেছি।
তিনি আরও বলেন, তবে কূটনীতি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি কী হয় তাও আমি দেখেছি। আমরা যা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিই আর বাস্তবে যা দিতে পারি, তার মধ্যে ব্যবধান বাড়লে আস্থা কমে যায়। একই সঙ্গে কমে যায় আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার সক্ষমতাও।
এদিকে নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের নিজ পদ থেকে সাময়িক ছুটি নিয়েছেন নুসেইবেহ।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিদের কাছে চিঠি দিয়ে নুসেইবেহকে মনোনীত করেছেন।
প্রসঙ্গত, নিরাপত্তা পরিষদে ৬ দফা ভোটাভুটির পরও পাঁচ স্থায়ী সদস্য তথা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রার্থী পাওয়া যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আমিরাতের পক্ষ থেকে নতুন এ মনোনয়ন এলো।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি বাছাইয়ের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১৬ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদে সর্বশেষ প্রাথমিক ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।
