দক্ষিণে ‘বরলক্ষ্মী’ থেকে ওড়িশার ‘মাণবসা’, রাজ্যভেদে দেবীর রূপ ভিন্ন, পশ্চিমবঙ্গের কিছু গ্রামের লক্ষ্মীপুজোর রীতিও বিচিত্র
লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। পুজোর সময়, তিথি ও আচারও আলাদা। আঞ্চলিকতার স্পর্শে ও প্রাচীন লোকবিশ্বাসে এই পুজো রাজ্যভেদে ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে।
০১ / ২৬
ভারতে লক্ষ্মীপুজোর ইতিহাস বহু প্রাচীন। সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি আর ধনসম্পদের দেবী হিসেবে লক্ষ্মীর আরাধনা হয়ে আসছে সেই প্রাচীন কাল থেকে। আশ্বিনের কোজাগরী পূর্ণিমায় লক্ষ্মীপুজোর ঐতিহ্য বাঙালির নিজস্ব সম্পদ। তবে কালীপুজোর সময়েও লক্ষ্মীর আরাধনা হয় কোনও কোনও বাঙালি বাড়িতে। লক্ষ্মীপুজোর ধরন বাঙালি বাড়িতে যেমন, দেশের অন্যান্য রাজ্যে ঠিক তেমন নয়। পুজোর আচার-অনুষ্ঠান, রীতি খানিক আলাদা। ভিন্রাজ্যে মূলত কার্তিক মাসের অমাবস্যাতিথিতে দীপাবলির সন্ধ্যায় গণেশ ও লক্ষ্মীর পুজো একসঙ্গে করার রেওয়াজ রয়েছে। আবার দেশের কিছু অংশে ভিন্ন তিথিতেও দেবীর আরাধনা করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তেও লক্ষ্মীপুজোর ধরনে কিছু পার্থক্য আছে। সেখানে আঞ্চলিকতার প্রভাব বড় স্পষ্ট। কোথাও দেবী লক্ষ্মী ধানের শিষের প্রতীকে শস্যের দেবী হিসেবে পূজিতা হন, আবার কোথাও ঘটের বদলে পটচিত্রে দেবীর রূপ ফুটিয়ে তুলে আরাধনা করা হয়।
০২ / ২৬
ওড়িশায় প্রধানত দু’টি ভিন্ন সময়ে ও রূপে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। একটি হয় আশ্বিন মাসের পূর্ণিমাতিথিতে যা ‘গজলক্ষ্মীপুজো’ হিসেবে সমাদৃত। অন্যটি অগ্রহায়ণ মাসে, যা স্থানীয়দের কাছে ‘মাণবসা গুরুবার’ নামে প্রচলিত।
০৩ / ২৬
মাণবসাপুজো অগ্রহায়ণ মাসে প্রতি বৃহস্পতিবার পালিত হয়। পুজোর মূল আকর্ষণ হল বাঁশের তৈরি এক ধরনের পরিমাপক পাত্র। প্রাচীন কালে ওড়িশায় দাঁড়িপাল্লার বদলে বাঁশ বা বেতের তৈরি এক ধরনের পাত্র দিয়ে ধান মাপা হত, যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘মাণ’ বলা হত। সেখান থেকেই এই নামকরণ। এই উৎসবে নতুন আমন ধানের শিষ ও শস্যে সেই 'মাণ' বা পাত্রটিকে কানায় কানায় পূর্ণ করে লক্ষ্মী রূপে পুজো করা হয়। ‘মাণবসা’ কৃষিজীবী সমাজের প্রাচুর্যের প্রতীক।
০৪ / ২৬
আশ্বিন মাসের পূর্ণিমাতিথিতে যে লক্ষ্মীপুজো হয় ওড়িশায় তার আচার ভিন্ন। এই পূর্ণিমাকে আবার কুমার পূর্ণিমা বলা হয় ওড়িয়া পঞ্জিকায়। অবিবাহিত ছেলেমেয়েরা এই পুজোয় যোগ দেন। দেবী লক্ষ্মীকে ঐশ্বর্যের প্রতীক হিসেবে পুজো করা হয় গজলক্ষ্মী রূপে। পদ্মাসনে উপবিষ্ট দেবী দু’পাশে দু’টি হাতি (গজ) পরিবেষ্টিত হয়ে থাকেন। সেই রূপেরই পুজো করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর মতোই ওড়িশার নানা জায়গায় গজলক্ষ্মীপুজো জাঁকজমকের সঙ্গেই পালিত হয়। ঢেঙ্কানাল ও কেন্দ্রাপড়ায় উৎসব আবার ৭ থেকে ১১ দিন ধরে চলে।
০৫ / ২৬
ওড়িশার লক্ষ্মীপুজোয় চালের গুঁড়ো দিয়ে যে আলপনা আঁকা হয়, তার নাম ‘ঝোটি চিতা’। দরজার চৌকাঠ থেকে পুজোর আসন পর্যন্ত মা লক্ষ্মীর ছোট ছোট পায়ের ছাপ এবং পদ্মফুলের আলপনা আঁকা হয়। দেবীকে নিবেদন করা হয় নানা রকম পিঠে। মন্ডা পিঠা, কাকরা পিঠা, আরিশা পিঠা, পোড়া পিঠা, পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া তৈরি দহি পাখাল ও ডালমাও দেবীর ভোগের থালায় সাজিয়ে দেওয়া হয়।
০৬ / ২৬
মহারাষ্ট্রে লক্ষ্মীপুজো মূলত 'লক্ষ্মী পূজন' নামে পরিচিত। দীপাবলির তৃতীয় দিনে (আশ্বিন/কার্তিক অমাবস্যায়) পুজো করা হয়। মহারাষ্ট্রের লক্ষ্মী পূজনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল ‘কেরসুণী’ বা নতুন ঝাঁটার পুজো করা। বাঙালির অলক্ষ্মী বিদায় পুজোর মতোই বিষয়টি অনেকটা। তবে আচার ভিন্ন। মরাঠীরা বিশ্বাস করেন, ঝাঁটা হল অলক্ষ্মী বা দারিদ্র দূর করার প্রতীক। এই দিন নতুন ঝাঁটা কিনে এনে হলুদ-কুমকুম দিয়ে পুজো করা হয়।
০৭ / ২৬
বাঙালির লক্ষ্মীপুজোর উপচারে ফল মিষ্টি ছাড়াও থাকে মোয়া, নাড়ু ইত্যাদি। মহারাষ্ট্রে লক্ষ্মী পুজনের ভোগে খই (লাহয়া), বাতাসা এবং গোটা ধনে ও গুড় নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া হয়। ধনেকে এখানে সমৃদ্ধির প্রতীক ধরা হয়।
০৮ / ২৬
মহারাষ্ট্রে কিন্তু কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোও পালিত হয়। সেখানে আশ্বিন পূর্ণিমা বা শারদ পূর্ণিমার রাতে যে আচার পালিত হয়, তা মরাঠীদের কাছে ‘কোজাগিরী পূর্ণিমা’। ওই দিন দেবীকে ‘মশলা-দুধ’ নিবেদন করার রীতি রয়েছে। দুধের সঙ্গে চিনি, কেশর, এলাচ, জায়ফল, প্রচুর পরিমাণে বাদাম, ড্রাই ফ্রুটস মিশিয়ে ঘন করে মশলা-দুধ তৈরি করা হয়। রাতভর এই দুধ খোলা আকাশের নীচে চাঁদের আলোয় রেখে দেওয়া হয়। তার পর তা পান করা হয়।
০৯ / ২৬
লোকবিশ্বাস আছে, চন্দ্রদেবের আশীর্বাদে চাঁদের আলোয় রাখা মশলা-দুধে অমৃত এসে মেশে এবং তা ঔষধি গুণে সমৃদ্ধ হয়। মধ্যরাতের পর বা সারা রাত জেগে পুজো করার পর, পরিবারের সকলে এবং প্রতিবেশীরা মিলে এই দুধ দেবী লক্ষ্মী ও চন্দ্রদেবকে উৎসর্গ করে প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেন।
১০ / ২৬
মহারাষ্ট্রের লক্ষ্মীপুজোর আরও এক ইতিহাস আছে। তা জুড়ে রয়েছে কোলহাপুরের মহালক্ষ্মী মন্দিরের সঙ্গে। কোলহাপুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, তাঁদের শহরেই অধিষ্ঠান করেন স্বয়ং বিষ্ণু এবং লক্ষ্মী। কোলহাপুরে দেবী লক্ষ্মী অম্বানী বা অম্বাবাঈ নামে জনপ্রিয়। পঞ্চগঙ্গা নদীর তীরে অম্বাদেবীর মন্দির। দীপাবলির অমাবস্যা এবং শারদীয় নবরাত্রিতে জাঁকজমকের সঙ্গে লক্ষ্মীপুজো হয় এখানে।
১১ / ২৬
লোকবিশ্বাস, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মহাভারতের যুগে নাকি এই মন্দির তৈরি হয়েছিল, যা নির্মাণ করিয়েছিলেন পাণ্ডবেরা। তবে ঐতিহাসিকদের অনুমান, সপ্তম শতাব্দীতে চালুক্য সম্রাটদের আমলে এই মন্দির নির্মিত হয়েছিল। মন্দিরটি একান্ন সতীপীঠের অন্যতম পীঠ বলে মনে করেন অনেকে। আবার কথিত আছে, দেবী লক্ষ্মী এখানে কোলহাসুর নামে অসুরকে বধ করেছিলেন। নবরাত্রির সময়ে এখান লক্ষ্মীপুজো ধুমধাম করে হয়। দেবী ওই দিন পালকিতে চড়েন। স্থানীয়েরা বলেন, দেবী এখানে মহালক্ষ্মী বা রুদ্রা হিসেবে পূজিতা হন।
১২ / ২৬
গোয়াতেও লক্ষ্মীপুজো হয় দীপাবলির সময়ে। সেখানেও নাম লক্ষ্মী পূজন। তবে কোঙ্কনি সংস্কৃতিতে লক্ষ্মীপুজোর উদ্যাপন ভিন্ন ভাবে হয়। এখানকার মূল আকর্ষণ ‘নরকাসুর বধ’ উৎসব। অমাবস্যার ভোরে নরকাসুরের কুশপুতুল দাহ করার পর, ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে সন্ধ্যায় লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়।
১৩ / ২৬
গোয়ার ব্যবসায়ীদের কাছে লক্ষ্মী পূজনের দিনটি হল নতুন আর্থিক বছর শুরুর দিন। বাঙালির পয়লা বৈশাখের মতো এই দিনেও গোয়ার ব্যবসায়ীরা লাল শালুতে মোড়া খেরোর খাতা খোলেন। ধুমধাম করে দোকান, গুদাম বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ধন্য লক্ষ্মী বা ধনলক্ষ্মীর পুজো করা হয়। সেই সঙ্গে পালিত হয় ‘চিরমূল্য’ উৎসব। আদতে ‘চিরমূল্য’ হল চাল থেকে তৈরি মুড়ি বা খইয়ের মতো এক ধরনের পাফ্ড রাইস। কোঙ্কনি ভাষায় একে ‘চিরমূল্য’ বলা হয়। এলাকার লোকজনের মধ্যে ওই চিরমূল্য, নানা রকম মিষ্টি ও উপহার বিতরণ করা হয়। এই দিন ছোটরা আনন্দের সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুজোর খই ও উপহার সংগ্রহ করে।
১৪ / ২৬
গুজরাতে দীপাবলি ও ধনতেরাস উপলক্ষে লক্ষ্মীপুজো হয়। কেউ বলেন ‘লক্ষ্মী-গণেশ পূজন’, কারও কাছে তা আবার হিসেবের খাতা খোলার দিন। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশীতিথি (ধনতেরাস) থেকে শুরু করে অমাবস্যা অবধি পালিত হয় উৎসব। স্থানীয়েরা মনে করেন, সে দিন থেকেই নতুন অর্থবর্ষের সূচনা হল। তাঁদের কাছে লক্ষ্মীপুজো হল ‘চোপড়া পূজন’। খেরোর খাতাকে গুজরাতিরা বলেন ‘চোপড়া’।
১৫ / ২৬
দীপাবলির ঠিক পরের দিন থেকে শুরু হয়ে যায় ‘বেস্তু বর্ষ’। অর্থাৎ, নতুন আর্থিক বছর। এই দিন লক্ষ্মীর পাশাপাশি গণেশ ও ধনের দেবতা কুবেরের পুজোও করা হয়। মোহনথাল, লাড্ডু, সুজি, নানা ধরনের শুকনো মিষ্টি নৈবেদ্য হিসেবে দেবীকে নিবেদন করা হয়।
১৬ / ২৬
দক্ষিণ ভারতে লক্ষ্মীপুজোর রীতি একেবারেই আলাদা। দক্ষিণীদের কাছে লক্ষ্মীপুজো হল ‘বরলক্ষ্মী ব্রতম’। তামিলনাড়ু, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানায় বরলক্ষ্মীর পুজো করা হয়। শ্রাবণ মাসের (আষাঢ় বা শ্রাবণ পূর্ণিমার আগের) শেষ শুক্রবার এই ব্রত পালন করা হয়। দক্ষিণ ভারতের এই পুজোর এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। মাটির প্রতিমার বদলে তামার বা রুপোর কলস স্থাপন করা হয় মাটিতে। সেই কলসটিকেই দেবীর রূপ দেওয়া হয়।
১৭ / ২৬
কলসের উপর আমপাতা ও কলাপাতা সাজিয়ে তার উপর নারকেল ও সোনালি পাড় দেওয়া রেশমি শাড়ি জড়িয়ে দেবী লক্ষ্মীর রূপ দেওয়া হয়, যাকে স্থানীয় ভাষায় বলে ‘কলসম’। পুজোয় দেবীর অষ্টরূপ বা আটটি আলাদা রূপের পুজো করা হয়। বিবাহিত মহিলারা স্বামী ও সংসারের মঙ্গল কামনায় এই ব্রত পালন করেন। দেবীকে নিবেদন করা হয় পায়েস। পুজোশেষে এয়োস্ত্রীরা একে অপরকে হলুদ ও সিঁদুর মাখান এবং পুজোর প্রসাদ বিতরণ করেন।
১৮ / ২৬
অসমে কাতি বা কার্তিক সংক্রান্তির সময়ে নতুন ফসল তোলার দিনে উৎসব হয়। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে ‘কাতি বিহু’ বা ‘কঙালী বিহু’। এই উৎসবের মূল লক্ষ্যই হল ফসলের সুরক্ষা এবং ঘরে সমৃদ্ধি নিয়ে আসার উৎসব। অসমের মানুষজন বাড়ির তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালান এবং ধানখেত ও শস্যভান্ডারে মাটি বা বাঁশের তৈরি ‘আকাশ বন্তি’ (আকাশপ্রদীপ) জ্বালিয়ে দেবী লক্ষ্মীর কাছে সুখ-সমৃদ্ধি ও ভাল ফসলের জন্য প্রার্থনা করেন।
১৯ / ২৬
কাতি বিহুর সময়ে কৃষকদের ধানগোলায় আগের বছরের জমানো চাল বা শস্য প্রায় ফুরিয়ে আসে। তাই এই সময়টিকে 'কঙালী' বা অভাবের সময় বলা হয়। এই অবস্থাতেই লক্ষ্মীর কাছে শস্যভান্ডার পূর্ণ করার প্রার্থনা জানিয়ে প্রদীপ জ্বালানো হয়। অসমিয়া লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, প্রদীপের আলো বা আগুন অশুভ শক্তিকে দূর করার এবং লক্ষ্মীকে ঘরে আমন্ত্রণ জানানোর প্রধান মাধ্যম। এই দিন ধানের খেতে প্রদীপ জ্বালালে লক্ষ্মীদেবী তুষ্ট হন এবং ফসলের ক্ষয়ক্ষতি রোধ হয়।
২০ / ২৬
রাজস্থানেও লক্ষ্মীপুজো চোপড়া পূজন হিসেবে পালিত হয়। সেখানকার ব্যবসায়ীদের কাছে তা হিসেবের নতুন খাতা খোলার দিন। রাজস্থানে লক্ষ্মীপুজোর মূল আকর্ষণ হল তাদের বিশেষ আলপনা ‘মান্ডনা’। রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের এক ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প। ঘর বা উঠোনের মেঝে বা দেওয়ালে প্রথমে গেরিমাটি (গেরু) ও গোবরের প্রলেপ দেওয়া হয়। তার উপর সাদা খড়িমাটি বা চালের গুঁড়োর মিশ্রণ দিয়ে জ্যামিতিক নকশা, লক্ষ্মীর পদচ্ছাপ, স্বস্তিক চিহ্ন ও নানা রকম সূক্ষ্ম নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়।
২১ / ২৬
পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তেও লক্ষ্মীপুজোর আচারে সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি জায়গা আছে যেখানকার লক্ষ্মীপুজো থিম ও সাজসজ্জার নিরিখে অনায়াসে টেক্কা দিতে পারে দুর্গাপুজো, কালীপুজো অথবা জগদ্ধাত্রীপুজোকে। হাওড়া জেলার আমতা বিধানসভা এলাকার খালনা গ্রামকে বলা হয় ‘লক্ষ্মীর গ্রাম’।
২২ / ২৬
গ্রামের বাড়ি-সহ সর্বজনীন পুজো— সব মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পুজো হয় খালনায়। তিন দিন ধরে চলা এই পুজোয় বাইরে থেকেও এসে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। সাবেক পুজোর পাশাপাশি এখানে থিমের পুজোও বেশ জনপ্রিয় ও নজরকাড়া।
২৩ / ২৬
হাওড়ার খালনার মতো বীরভূমের ময়ূরেশ্বরে ঘোষগ্রামেরও আছে বিচিত্র ইতিহাস। সেখানে ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপুজো হয় না। প্রাচীন এক মন্দিরে প্রায় ৫০-৫২টি গ্রামের মানুষ একত্র হয়ে লক্ষ্মীপুজো করেন। জনশ্রুতি, রাজা হর্ষবর্ধনের আমল থেকেই এই পুজোর প্রচলন। স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজো শুরু হয়। সেই ঐতিহ্য আজও বয়ে চলেছেন গ্রামের মানুষজন।
২৪ / ২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বর্ধমান) লক্ষ্মী শস্য, অরণ্য ও প্রকৃতির দেবী। কৃষক পরিবারগুলিতে শস্যলক্ষ্মীর পুজো হয়। বেতের তৈরি ছোট চুপড়ি বা ঝুড়িতে (যাকে আঞ্চলিক ভাষায় ‘আড়ি’ বা ‘কুনকে’ বলা হয়) নতুন ধান ভর্তি করা হয়। তার উপর কাঠের সিঁদুরকৌটো লাল চেলিতে মুড়ে লক্ষ্মীর রূপ দেওয়া হয়।
২৫ / ২৬
রাঢ় অঞ্চলের অনেক কৃষক পরিবারে কোজাগরী পূর্ণিমা ও নবান্নের সময়ে খেত থেকে ধানের শিষ কেটে এনে ঘরে লক্ষ্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। একে আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় ‘আউনি-বাউনি’। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এতে গৃহস্থের শস্যভান্ডার কখনও খালি হয় না।
২৬ / ২৬
বাঁকুড়া ও বীরভূমের বেশ কিছু গ্রামে আবার মাটি বা পিতলের প্রতিমার বদলে পটচিত্রে দেবীলক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। পটুয়ারা প্রথাগত ভাবে মাটির সরা বা কাপড়ে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও পেঁচার ছবি এঁকে পট তৈরি করেন। সেই পটকেই লক্ষ্মীরূপে পুজো করা হয়।
