অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দেশে জন্মনিবন্ধনের ঘাটতির কারণে শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান কর্মসূচি এবং জনসংখ্যা পরিকল্পনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে মোট প্রজনন হার (টিএফআর) আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাম্প্রতিক হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১ কোটি ৯৯ লাখ শিশুকে লক্ষ্যমাত্রায় রাখা হলেও একই বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার। দুই কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ২৮ লাখ শিশুর ব্যবধান জন্মনিবন্ধন ও নির্ভুল জনসংখ্যা তথ্যের ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট করে।
সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ১ লাখ মানুষের জন্মনিবন্ধন হয়নি। ফলে বয়সভিত্তিক জনসংখ্যার সঠিক তথ্য না থাকায় টিকাদান, পুষ্টি, রোগ প্রতিরোধ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির পরিকল্পনায় অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে। এতে অনেক শিশু প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এবারের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য **‘তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি।’**
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুর জন্ম হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে হয়। তাই হাসপাতাল থেকেই জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা গেলে নিবন্ধনের হার দ্রুত বাড়বে এবং স্বাস্থ্য পরিকল্পনার জন্য নির্ভুল তথ্য পাওয়া সহজ হবে।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে জন্ম, মৃত্যু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার সময় জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হচ্ছে।
এদিকে, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মোট প্রজনন হার ২.১ উল্লেখ করা হলেও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপ (মিকস) অনুযায়ী তা বেড়ে ২.৪-এ পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গত দেড় থেকে দুই বছর জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ ঘাটতির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা জানিয়েছেন, নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে আগামী ১৫ মাসের জন্য প্রয়োজনীয় পিল, কনডম, ইনজেকটেবলসহ সব ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরবরাহ শুরু হলে বর্তমান সংকট দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, জন্মনিবন্ধনের জটিলতায় যাতে কোনো শিশু স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য জন্মের এক সপ্তাহের মধ্যে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন সরবরাহের মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ঘাটতিও দ্রুত কাটিয়ে ওঠার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
