সংবাদ · সাধারণ
রোহান হত্যার বিচার দাবি: প্রবাসী আসামিদের ফেরাতে স্মারকলিপি
২৫/১০/২০২৬

রাজবাড়ীতে কলেজ শিক্ষার্থী ফুয়াদ চৌধুরী রোহান (২১) হত্যাকাণ্ডের বিচার, জড়িত দুবাইপ্রবাসী আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন এলাকাবাসী ও রোহানের সহপাঠীদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল নিয়ে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু, নিহত রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব ও রেজাউল করিম পিন্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ খালেদ পাভেল এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।বক্তারা জানান, রোহান রাজবাড়ী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ৫ অক্টোবর সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর, ৮ অক্টোবর বিকেলে পাকুরীকান্দা এলাকার একটি পুকুর থেকে তার বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে তারা বলেন, পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে ফিরোজ সরদার ও রিয়াজ সরদার নামের দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে দুবাইপ্রবাসী রাসেল সরদার, লিটন সরদার, মিলন সরদার ও খোকন সরদারের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার কথা। অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসে থাকা এসব অভিযুক্তরা মূল ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিজেদের বাড়িতে নিজেরা আগুন দিয়ে নিহত রোহানের বাবার বিরুদ্ধে পাল্টা মিথ্যা মামলার চেষ্টা করছেন এবং পরিবারটিকে সামাজিক মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।মানববন্ধন থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রবাসী আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের হয়রানি না করার দাবি জানানো হয়।স্মারকলিপি গ্রহণের পর রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, 'রোহান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত চারজনের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এবং বাকি দুজনকে তিন দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে অর্থদাতা বা পরিকল্পনাকারী হিসেবে যেসব প্রবাসীদের নাম এসেছে, তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।'
মূল প্রতিবেদনে যান ↗