Published on
:
2 min read
ঠাকুর দেখা নেশা ছিল। প্রতি বছর পুজোয় রোজ বেরোতেন। গোটা কলকাতা চষে বেড়িয়ে প্রায় সমস্ত বড় পুজোই দেখে ফেলতেন। একাই যেতেন। শনিবারও গিয়েছিলেন। দুপুরে সেজেগুজে বেরিয়ে পড়েছিলেন কলকাতার ঠাকুর দেখতে। কিন্তু তার পরে আর বাড়ি ফেরা হলো না হাওড়ার উত্তর সালকিয়ার বাসিন্দা বিকাশ ভট্টাচার্যের!
শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো দেখতে গিয়ে যে ১৯ জন দর্শনার্থীর মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে বছর চৌষট্টির বিকাশও রয়েছেন। এই ঘটনার জন্য সরাসরি পুজো কমিটির গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন বিকাশের ভাই তাপস ভট্টাচার্য। দুষেছেন রাজ্য প্রশাসনকেও। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।
তাপস জানান, শনিবার দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ বিকাশ বাড়ি থেকে বেরোন। যান উত্তর কলকাতার ঠাকুর দেখতে। তার পরে এই দুর্ঘটনা। সন্ধ্যায় তাপস পুলিশের ফোন পান। তাঁকে জানানো হয় যে, তাঁর দাদা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোন হাসপাতালে, তা তখনও বলা হয়নি। এর পরে তিনি নিজেই খোঁজ করে, টেলিভিশনে খবর দেখে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন, বিকাশের মৃত্যু হয়েছে। তাপস বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে দেখি, দাদা সাদা চাদরে ঢাকা অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। মুখের কাপড় সরিয়ে দাদার দেহ শনাক্ত করেছি আমি।’
বিকাশ অবিবাহিত ছিলেন। তাই তিনি একাই বেরোতেন বলে জানান তাপস। বলেন, ‘আমিও অবিবাহিত। দাদাও অবিবাহিতও। ও একাই চলে যেত। সব ঠাকুর দেখত। জগদ্ধাত্রী ঠাকুরও দেখতে যেত, এমন নেশা ছিল।’ চোরবাগানের মৃত্যুমিছিলের জন্য তাপস সরাসরি দায়ী করেছেন পুজো কমিটির গাফিলতি এবং রাজ্য প্রশাসনের উদাসীনতাকে। তিনি চান, গোটা ঘটনার তদন্ত হোক। প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাঁদের প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। তাপসের কথায়, ‘বৃষ্টির সময়ে প্যান্ডেলে প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল। প্রবেশ-বেরোনোর রাস্তা সরু এবং প্যান্ডেলের মধ্যে অন্ধকার থাকার জন্যই এই ঘটনা।’
