গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪৩
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ইউনিট-২-এ লাগা আগুন প্রায় চার ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট কাজ করছে। একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও বিজিবি যোগ দেয়।
এদিন বেলা দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল সোয়া ১০টার দিকে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ইউনিট-২-এ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন কারখানার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের শিখা ও ঘন ধোঁয়া দেখা যায়। খবর পেয়ে গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরা ও আশপাশের বিভিন্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে একে একে ২১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শাহিন আলম জানান, আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় বিভিন্ন স্টেশনের কর্মীরা সম্মিলিতভাবে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম চালান। কারখানার ভবনটি ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও কাচ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ দ্রুত পুড়ে যাওয়ায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের।
আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ১৪টি ইউনিট কাজ করছিল বলে জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম। পরে আরও ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। পরবর্তী সময়ে মোট ২১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেয়। একপর্যায়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবি আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়।
কারখানার ভেতরে থাকা ওষুধ, উৎপাদনসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কারখানার চারতলা ভবনের কেমিক্যাল থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। তিনি বলেন, এখন ভেতরে থাকা আগুন ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। এ কাজ বৃহস্পতিবার সারাদিন লাগবে। কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। কারখানাটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ