শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৩ রাত
নিউজ ডেস্ক: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেন-এমন যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়াসহ চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাদের একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাতে নগরীর র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে-ভিউ হোটেলে সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। অন্য নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে-নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতা-কর্মীদের ভূমিকা রাখা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সহযোগিতা করা এবং ঐক্যবদ্ধ থাকা। সভায় উপস্থিত বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে সাংগঠনিক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও। তারেক রহমান নগরীর জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে দলীয় সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন। রাত ১১টার দিকে সভাটি শেষ হয়। নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ফ্যাসিবাদী আমলের মতো হবে না। এ নির্বাচনে সরকার বা দল কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। তাই স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য এবং বিজয়ী হয়ে আসতে পারেন-এমন প্রার্থীকে সমর্থন দিতে হবে।
এ ছাড়া সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। কারণ বিএনপি ক্ষমতায় আসার সময় যে ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পেয়েছে সেটার উন্নতি ঘটানো একা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের দলের কোনো নেতা-কর্মী যেন অন্যায় বা অপরাধের মধ্যে না জড়ায়-সে ব্যাপারে দলীয় চেয়ারম্যান সতর্ক থাকতে বলেছেন।
নাজিমুর রহমান আরও জানান, এর বাইরে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান। যেকোনো সময় রাজাকার, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার এক হয়ে যেতে পারে। তাই নেতা-কর্মীদের সব সময় সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলীয় প্রধান।
খুলনা ও বাগেরহাট যাচ্ছেন আজ : প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো খুলনা-বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ১০টায় হেলিকপ্টারে সুন্দরবন হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ শেষে খুলনার দাকোপে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন। এরপর লঞ্চযোগে বাগেরহাটে মোংলায় বানৌজা জেটিতে যাবেন ও দুপুর পৌনে ২টায় ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় যোগ দেবেন। বিকাল ৩টায় তিনি মোংলা বন্দরের জেটি ও সাড়ে ৩টায় প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করবেন। জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি নেই। এ অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকা ও কীভাবে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটানো যায় তা সরাসরি দেখতে তিনি খুলনা-বাগেরহাটে আসছেন। এদিকে তার আগমন ঘিরে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে এ অঞ্চলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে পুরো এলাকা। প্রধানমন্ত্রীর সফরে মোংলা বন্দর আরও কার্যকরী করার পাশাপাশি ইকোনমিক জোন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ গুরুত্ব পাচ্ছে।
মোংলার আকরাম পয়েন্টে ভাসমান এলএনজি স্টেশন নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইও রয়েছে আলোচনায়।
খুলনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। এ অঞ্চলের উন্নয়নে তিনি কী বার্তা দেবেন- তার অপেক্ষায় রয়েছে মানুষ।
মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ঘিরে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক বিনিয়োগ বাণিজ্য বাড়বে। ইপিজেড সচল হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
