Published on
:
2 min read
ক্রিকেটের মতো ক্যাশ রিচ খেলা থেকে যত বেশি সম্ভব তত বেশি আয়ের লক্ষ্যে থাকে আয়োজকরা। আর বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড BCCI তার অন্যথা করেনি। একের পর এক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়, তিন ফর্ম্যাটের ক্রিকেট ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আয়োজন করার মতো ঘটনা ঘটছে আর এর প্রভাব ক্রিকেটারদের রক্তমাংসের শরীরকে কার্যত যন্ত্রে পরিণত করেছে। এই বিষয়ে এ বার সরব হলেন টিম ইন্ডিয়ার ওপেনার তথা উইকেটকিপার সঞ্জু স্যামসন।
এশিয়ান গেমস খেলে ফের মাঠে
মাত্র কিছুদিন আগেই জাপানের আইচি-নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসের মেগা ফাইনালে পাকিস্তানকে উড়িয়ে সোনা জিতেছিল ভারত। সেই ম্যাচ শেষের ঠিক তিন দিনের মাথায়, গত ৬ অক্টোবর ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় খেলতে মাঠে নেমে পড়তে হয়েছিল দলকে। দীর্ঘ বিমানযাত্রা ও তীব্র জেট ল্যাগের কারণে তখন ঠিকমতো ঘুমোতে পারেনি প্লেয়াররা। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার জানিয়েছিলেন তাঁদের ঘুম না হওয়ার কথা। এবার সেই একই ক্লান্তিকর ও অমানবিক সাইকেলের কথা বললেন সঞ্জু।
বেঙ্গালুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে সিরিজ় শেষ হতে না হতেই ব্যাগ গুছিয়ে সুদূর দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ নিউ জ়িল্যান্ডে রওনা হতে হচ্ছে ভারতীয় দলকে। মাঝে ব্যবধান মাত্র পাঁচ দিনের। আগামী ২২ অক্টোবর ক্রাইস্টচার্চে ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে ভারত। কিন্তু ভারত ও নিউ জ়িল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘ বিমান ভ্রমণ, সময়ের পার্থক্য এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহাওয়ায় নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার জন্য ক্রিকেটাররা সময় পাচ্ছেন মাত্র কয়েক ঘণ্টা।
অস্বাভাবিক সূচি নিয়ে সরব
সম্প্রচারকারী চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলার সময় এই অস্বাভাবিক সূচি নিয়ে বার্তা দিয়েছেন সঞ্জু। তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী, বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি যেভাবে তৈরি করা হয়, তাতে প্রস্তুতি নেওয়ার বা নেট সেশনে গা ঘামানোর বিন্দুমাত্র সময় পাওয়া যায় না। আর ঠিক এই জায়গাতেই বছরের পর বছর খেলার অভিজ্ঞতা কাজে আসে। এমন পরিস্থিতিতে দরকার নিজেকে ইতিবাচক মানসিকতায় ধরে রাখা এবং যেটুকু সময় পাওয়া যায়, তার সদব্যবহার করাই একমাত্র রাস্তা।’
পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে স্যামসন বলেন, ‘আমরা ২০ তারিখে ওখানে পৌঁছব, ২১ তারিখ একদিনের ব্যাটিং অনুশীলনের জন্য পাব এবং ২২ তারিখ ম্যাচে নেমে পড়ব। ফলে ঘরের মাঠে ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে যে ইতিবাচক বিষয়গুলো আমরা করেছি, সেগুলোকেই সঙ্গে নিয়ে নামতে হবে। নিউ জ়িল্যান্ডের আবহাওয়া ও পিচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সামান্য সময় লাগেই। তাই আমরা মাঠে নেমে প্রথম দু-তিনটি বল দেখে নিয়ে উইকেটের গতি ও বাউন্স বিচার করব।’
যদিও ভারতীয় শিবিরের একমাত্র স্বস্তির খবর হলো, বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে খেলা হয়েছিল মাত্র ৭.৪ ওভার। ম্যাচটি ভেস্তে যাওয়ায় অতিরিক্ত ৪০ ওভারের ফিল্ডিং ও বোলিংয়ের শারীরিক ধকল থেকে বেঁচে গেছেন ক্রিকেটাররা।
