পুজোর কেনাকাটা শেষ। ষষ্ঠীর সকালে আলমারি থেকে বেরিয়ে এল নতুন জামা। সাজগোজ করে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়লেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই ঘাড়ে, হাতে বা কোমরের কাছে শুরু হল চুলকানি। কোথাও ত্বক লাল হয়ে উঠল, কোথাও আবার দেখা দিল ছোট ছোট দানা।
উৎসবের আনন্দে এমন অস্বস্তি কে-ই বা চায়! অথচ নতুন পোশাক পরার পর ত্বকে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে তাকে নিছক গরম বা ঘামের ফল ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। পোশাকের রং, ফিনিশিংয়ে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক বা কাপড়ের সঙ্গে ত্বকের সংস্পর্শ থেকেও এমন সমস্যা হতে পারে।
নতুন পোশাকেই অ্যালার্জি?
নতুন জামা মানেই ত্বকের সমস্যা হবে, এমন নয়। তবে কিছু পোশাকে ব্যবহৃত রং, রং স্থায়ী রাখার উপাদান বা ফিনিশিংয়ের রাসায়নিক, সংবেদনশীল ত্বকে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। কোনও উপাদানের সংস্পর্শে ত্বকে প্রদাহ হলে, তাকে বলা হয় কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস। এর ফলে চুলকানি, লালচে ভাব, ফোলা, শুষ্কতা বা ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে যে অংশে পোশাক শরীরের সঙ্গে আঁটসাঁটভাবে লেগে থাকে, যেমন ঘাড়, বগল, কোমর বা উরু, সেখানে সমস্যা বেশি চোখে পড়তে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে রাসায়নিকই অ্যালার্জির জন্য দায়ী, এমনটা নয়। গরমে ঘাম জমা বা কোনও নির্দিষ্ট তন্তুর প্রতি সংবেদনশীলতার কারণেও ত্বকে অস্বস্তি হতে পারে।
ঘাম বাড়ায় অস্বস্তি
পুজোর সময় দীর্ঘক্ষণ ঠাকুর দেখার ভিড়ে থাকা, হাঁটাহাঁটি করা এবং ঘেমে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতিতে আঁটসাঁট পোশাক বা যে পোশাকে বাতাস চলাচল কম হয়, তা ত্বকের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। ঘাম ও ঘর্ষণের কারণে ত্বকে লালচে দাগ, জ্বালা বা ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। আবার পোশাকের কোনও উপাদানে আগে থেকেই সংবেদনশীলতা থাকলে, তা ঘাম বা ত্বকের সংস্পর্শে এলে সেই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাই শুধু নতুন পোশাককেই দায়ী না করে কখন সমস্যা শুরু হচ্ছে, শরীরের কোন অংশে হচ্ছে এবং পোশাক বদলালে অস্বস্তি কমছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

পরার আগে কী করবেন?
নতুন পোশাক প্রথমবার পরার আগে সম্ভব হলে ধুয়ে নিন। এতে কাপড়ে লেগে থাকা কিছু অবশিষ্ট রং বা রাসায়নিক দূর হতে পারে। পোশাকের গায়ে লেখা নির্দেশিকা মেনে ধোয়াই সবচেয়ে ভালো। ত্বক সংবেদনশীল হলে খুব আঁটসাঁট পোশাক এড়িয়ে চলুন। এমন কাপড় বেছে নিন, যা আরামদায়ক এবং ঘাম জমে থাকার সমস্যা কমায়।
নতুন জামা পরার পর চুলকানি বা জ্বালা শুরু হলে পোশাকটি দ্রুত খুলে ফেলুন। আক্রান্ত অংশ পরিষ্কার জল দিয়ে আলতো করে ধুয়ে নিন এবং ত্বক শুকনো রাখুন। নিজের ইচ্ছেমতো স্টেরয়েড ক্রিম, অ্যান্টিবায়োটিক মলম বা কোনও প্রসাধনী লাগাবেন না। ভুল ওষুধ বা ক্রিম ব্যবহার করলে সমস্যা বাড়তে পারে বা সঠিক রোগ নির্ণয়ে দেরি হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?
পোশাক বদলানোর পরেও চুলকানি বা লালচে দাগ না কমলে, ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়লে, ত্বকে ফোসকা তৈরি হলে বা বারবার একই সমস্যা হলে ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে চিকিৎসক পরীক্ষা করে অ্যালার্জির সম্ভাব্য কারণ নির্ণয় করতে পারেন।
তবে ঠোঁট, জিভ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাস নিতে সমস্যা বা মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা গুরুতর অ্যালার্জির সংকেত হতে পারে। এমন হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসার দরকার।
পুজোর নতুন পোশাক আনন্দের অংশ, অস্বস্তির কারণ নয়। তাই শুধু সাজের দিকে নয়, ত্বকের আরামের দিকেও নজর দিন। নতুন পোশাক পরার আগে সামান্য সতর্কতা নিলে উৎসবের দিনগুলো অনেক বেশি স্বস্তিতে কাটানো সম্ভব।
