আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে দেশজুড়ে চলছে বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদ। রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে শেষমেশ নিজেদের দু'টি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কমিশনের তরফে দু'টি বড় ঘোষণা করা হয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি কমিশন ঘোষণা করেছে, ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নতুন ভোটারের নাম রেজিস্ট্রেশনের জন্য স্পেশাল সামারি রিভিশন (SSR) ফের চালু করা হবে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক দলগুলিকে এই প্রথম ভোটার তালিকার সফট কপি দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি SIR প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ ওঠে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয় বিরোধী দলগুলি। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গরমিলের কারণে স্পেশ্যাল সামারি রিভিশন (SSR) স্থগিত থাকায় প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ 'জেন-জি' ভোটাররা নাম তালিকাভুক্ত করতে পারছিলেন না। কমিশন সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীও এই প্রক্রিয়া চালুর জন্য সিইসি-কে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
মূলত, SIR একটি বিস্তারিত প্রক্রিয়া। যেখানে নাগরিকত্বের প্রমাণ ও পুরনো তালিকার সঙ্গে তথ্য মেলানো এবং বিএলও-দের বাড়ি বাড়ি যেতে হয়। অন্যদিকে, SSR একটি সাধারণ বার্ষিক প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে নতুন ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়। এর ফলে যে ভোটারদের নাম বাদ পড়েছিল, তাঁরা নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও পাঞ্জাবের মতো আসন্ন নির্বাচনমুখী রাজ্য-সহ ১৭টি অঞ্চলে এই SSR প্রক্রিয়া কার্যকর হবে।
পাশাপাশি, ভোটার তালিকার সফট কপি দেওয়াকেও বিরোধীরা বড় জয় হিসেবে দেখছে। এতদিন কমিশন স্ক্যান করা 'ইমেজ-অনলি' পিডিএফ দিত, যেখানে ভোটারদের নাম খোঁজা বা কপি করা যেত না। ২০১৮ সালে কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টে এর বিরোধিতা করলে কমিশন গোপনীয়তার অজুহাত দিয়েছিল। ২০২৫ সালে রাহুল গান্ধী ফের একবার একই অভিযোগ জানান।
কমিশনের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম বলেন, "কোটি কোটি নাম বেআইনিভাবে বাদ দেওয়ার পর আবার একই কাজে অতিরিক্ত খরচ করার দায়ে সিইসি-র উপর জরিমানা করা উচিত।" এনসিপি (এসপি) বিধায়ক জীতেন্দ্র আওহাদও কমিশনের এতদিন তথ্য লুকানোর চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
