ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরের গ্রিল ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা মন্দির থেকে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার, পিতলের মূর্তিসহ মোট ছয়টি ছোট-বড় মূর্তি এবং প্রণামির বাক্সের টাকা নিয়ে গেছে। সোমবার সকালে মন্দিরের পূজারি বিষয়টি দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
মন্দির-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ৯টার পর থেকে সোমবার সকালের মধ্যে মন্দিরের পেছনের দিকের গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চোরেরা। পরে মন্দির থেকে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার, পিতলের মূর্তিসহ মোট ছয়টি ছোট, মাঝারি ও বড় মূর্তি এবং প্রণামির বাক্সের টাকা নিয়ে যায়। ওই বাক্সে প্রায় ছয় মাসের প্রণামির টাকা জমা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
সোমবার সকালে পূজারি মন্দিরে এসে চুরির বিষয়টি দেখতে পান। পরে মন্দির পরিচালনা কমিটি, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সদস্য ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কত টাকা, কী পরিমাণ স্বর্ণ ও রুপার অলংকার এবং কী মূল্যের মূর্তি খোয়া গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মন্দিরের পুরোহিত বিমল চক্রবর্তী জানান, সকালে পূজা দিতে এসে তিনি চুরির ঘটনা দেখতে পান। তার ধারণা, রাত ৯টার পর থেকে সকালের মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটে।
শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি দীপক কুমার ঘোষ জানান, মন্দিরের পেছনের দিকের গ্রিল ভেঙে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে। মেরামতকাজের জন্য ওই পাশের সিসিটিভি ক্যামেরা খোলা ছিল বলে জানান তিনি।
এদিকে মন্দিরে চুরির খবর পেয়ে কসবা-আখাউড়া আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় মন্দিরে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা কেনার জন্যে এক লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
আখাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী রেজা মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কীভাবে চুরির ঘটনা ঘটেছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে একজনকে দেখা গেছে। তাকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া বলেন, খবর পেয়ে তিনি মন্দির পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় প্রশাসন কাজ করছে।
