Published on
:
2 min read
এই সময়: রাজ্যে তৃণমূলের সরকার থাকাকালীনই শুরু হয়েছিল রাজ্য বার কাউন্সিলের ভোট। আর বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরে কাউন্সিলের ভোটের ফলপ্রকাশ হয়। সেই ফলে দেখা যায় বিজেপিপন্থী ৩ প্রার্থী, বামেদের ৩ জন, কংগ্রেস শিবিরের ২ জন ও তৃণমূলপন্থী ১৫ জন জিতেছেন। দু’টি আসনে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মনোনীত সদস্য হন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় ও বর্ষীয়ান আইনজীবী মঞ্জু আগরওয়াল।
এ ছাড়া অ্যাডভোকেট জেনারেলেরও আলাদা ভোটাধিকার রয়েছে। সোমবার বার কাউন্সিলের বোর্ডের চেয়ারপার্সন পদের ভোটাভুটি ছিল। বোর্ডে তৃণমূলপন্থীদের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও সবাইকে অবাক করে জিতে গেলেন বিজেপিপন্থী আইনজীবী সমীর পাল! ১৮-৮ ভোটে সমীর পালের এই জয়ে তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের দিক থেকে ক্রস ভোটিং হয়েছে বলেই আইনজীবীদের দাবি। ভাইস চেয়ারপার্সন পদেও বামপন্থী প্রার্থীকে হারিয়েছেন বিজেপিপন্থী আইনজীবী অজয় চৌবে। এর ফলে দীর্ঘ দশ বছর বার কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন পদে থাকা কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক অশোক দেবকে সরতে হলো।
আইনজীবীরা বলছেন, বোর্ডের ভোটের ফলাফলেই স্পষ্ট, তৃণমূলপন্থী শিবিরে বড়সড় ফাটলেই এই ফল হয়েছে। সর্বভারতীয় বার কাউন্সিলে এ রাজ্যের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন আইনজীবী অরুণ সরকার। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূলপন্থী আইনজীবী। যদিও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে অরুণ সরকার নিজে কাউন্সিলের মূল নির্বাচনে তৃণমূলপন্থী আইনজীবী হিসেবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
অন্য দিকে, বোর্ড গঠনের পরে বাম ও কংগ্রেসপন্থী কয়েক জন বোর্ড সদস্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে কীসের ভিত্তিতে তিনি মনোনীত সদস্য হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় ও আইনজীবী মঞ্জু আগরওয়ালকে বাছলেন, সেই সব নথি চেয়েছেন।
এই বোর্ড গঠন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ভোট হয়েছিল বিধানসভা নির্বাচনের আগে। বিধানসভা ভোটের পরে ফল বেরোয়। অনেকেই নিউজ করেছিলেন যে বিজেপি সমর্থিতরা তিন জন জিতেছেন। তৃণমূল নাকি জয়যুক্ত হয়েছে। তৃণমূল তো এখন ত্রিখণ্ডিত, একদল নতুন পার্টিতে জয়েন করেছেন আর একটি দল দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছে। নাম, নিশান, পতাকা নেই। তৃণমূল নির্মূল হয়েছে!’
শুভেন্দুর সংযোজন, ‘সবার সঙ্গে আলোচনা করে গতকাল যে প্রার্থীদের আমি মনোনীত করেছিলাম, তাঁরাই আজ জয়যুক্ত হয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থীদের হারিয়ে। রাজ্যের কয়েক হাজার আইনজীবী যে ভাবে রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রেখেছেন, ভারতীয় জনতা পার্টির উপরে আস্থা রেখেছেন, তার জন্য তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’