আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তার বক্তব্যের ফলে আইন পেশায় প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে সম্প্রতি তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছিলেন, আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্টের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় এবং তা ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন এই সিদ্ধান্তের কথা নাকচ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
‘বয়সসীমা নিয়ে কোনো সভাই হয়নি’
জয়নুল আবেদীন বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ১৫ সদস্যের একটি সংস্থা। অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে এর চেয়ারম্যান হলেও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তার ভোটাধিকার নেই। নির্বাচিত ১৪ সদস্যের ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাচিত সদস্যদের ভোটাধিকার রয়েছে এবং ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি তাদের নেতৃত্ব দেন।
তিনি আরও জানান, বার কাউন্সিলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সারাদেশের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতি বছর সংস্থাটির একটি বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বার কাউন্সিলের নির্বাচিত ও পদাধিকারবলে সদস্যদের পাশাপাশি দেশের সব আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অংশ নেন।
তবে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়ে এ ধরনের কোনো সভা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, বার কাউন্সিলও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বিজ্ঞাপন
আইন পাসের আগে চূড়ান্ত কিছু বলার সুযোগ নেই
বয়সসীমা নির্ধারণ নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়নুল আবেদীন বলেন, আইনমন্ত্রী সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেন। তবে সেই বক্তব্য কীভাবে গ্রহণ করা হবে, তা দেশের আইনজীবীরাই নির্ধারণ করবেন।
তিনি বলেন, তার বা বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের মতামতের ভিত্তিতে কোনো আইন পাস হবে না। বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়ে আইন প্রণীত হওয়ার পর এ নিয়ে মন্তব্য করা যাবে। বর্তমানে বিষয়টি কোনো আইনে পরিণত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
কী বলেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রী?
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা।
একই দিন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছিলেন, ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসময় মঞ্চে থাকা অন্যরা অ্যাটর্নি জেনারেলের দিকে তাকালে তিনি বলেন, ‘অলরেডি সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।’
এ দুজনের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সারাদেশের আইনজীবী ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রস্তুতির পর আইন পেশায় প্রবেশ করতে আগ্রহীদের জন্য সম্ভাব্য বয়সসীমার প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এফএইচ/এমকেআর
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
