Published on
:
2 min read
সোমনাথ মণ্ডল
রাজনৈতিক সংঘাত। স্টল ভাঙচুরের অভিযোগ। বুলডোজার ঘিরে বিতর্ক।
পুজোর আগে সিপিএমের বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে তপ্ত হয়েছিল বঙ্গ রাজনীতি। সংঘাতের আবহেই তাক লাগিয়ে দিল লাল ঝান্ডার বুক স্টল। এখনও হিসেব শেষ না হলেও বই বিক্রিতে কোটির অঙ্ক ছুঁয়ে ফেল তারা। সিপিএমের প্রাথমিক হিসেব অন্তত তেমনই। মার্কস-লেনিনের বই তো আছে, সেই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বিবেকানন্দের বইয়ের চাহিদাও ছিল তুঙ্গে। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে দর্শকদের এ ভাবে বই কেনার হিড়িক দেখে কমরেডদের কেউ কেউ বলছেন, ‘এ বছর বই কিনেই বাঙালিরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বইকে রাজনীতিতে আটকে রাখা যায় না।’
যাদবপুর ৮ বি–র বুক স্টলে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। পৌঁছে যায় বুলডোজার। এমনকী, বিষয়টি আদালত পর্যন্তও গড়ায়। সিপিএমের অন্দরের খবর, যাদবপুরের ওই স্টল থেকে রেকর্ড বই বিক্রি হয়েছে। পুজোতে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার বই কিনেছেন পাঠকেরা! দ্বিগুণেরও বেশি আয় হয়েছে দলের।
শুধু তাই নয়, বেলেঘাটা থেকে বেহালা। বরাহনগর থেকে নেতাজিনগর। ছোট-বড় সিপিএমের বইয়ের স্টল থেকে রেকর্ড বই বিক্রি হয়েছে এ বারে। সিপিএমের কলকাতার জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার বলেন, ‘কলকাতা জেলা কমিটির অর্ন্তগত স্টলগুলোতে গত বছর আমরা ৪৭ লক্ষ টাকার বই বিক্রি করেছি। এ বার ১১৯টি স্টল হয়েছে। তার মধ্যে ৩০–৩৫টি স্টল বাধার মুখে পড়েছে। তাতেও ৯০ লক্ষ থেকে ১ কোটির আশপাশে বই বিক্রি হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।’ সিপিএম নেতা কৌস্তভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এ থেকেই বোঝা যায় বাঙালি বইকে কোনও রাজনৈতিক পরিসরে দেখে না। রাজ্য জুড়ে আমাদের বইয়ের স্টল থেকে কেউ মার্কস-লেনিনের লেখা খুঁজেছেন। কেউ রবীন্দ্রনাথের গল্পসমগ্র, কেউ শরৎচন্দ্রের উপন্যাস, আবার স্বামী বিবেকানন্দের বইও কিনেছেন। নির্দিষ্ট হিসেব কিছু দিন পরেই বলে দিতে পারব।’
দলীয় সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার হিন্দিভাষী এলাকার যে স্টলে গত বছর মাত্র ৫ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছিল, সেখানেও এ বার ৩০ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছে। বাগবাজারে সিপিএম বহু দশক ধরে স্টল দেয়। সেখানে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকারও বেশি বই বিক্রি হয়েছে। যদিও সিপিএমের বই বিক্রি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘সিপিএমের রাজনৈতিক দৈন্যতা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে! এ ভাবে বেশি বই বিক্রির দাবি করতে হচ্ছে। ওরা ক্ষমতায় থাকাকালীন গণশক্তির সার্কুলেশন কত ছিল? এখন কত সার্কুলেশন? সিপিএম একটি প্রত্যাখ্যাত এবং পরিত্যক্ত রাজনৈতিক দল। এই মুহূর্তে অপ্রাসঙ্গিক।’
বামেদের বুকস্টল ভাঙচুরের ঘটনাকে যে তিনি সমর্থন করেন না, সেটা আগেই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন শমীক। তাঁর দাবি, যারা বামেদের বুকস্টল ভেঙেছে, তারা বিজেপির ক্ষতি করতেই এ সব করেছে। স্টল ভাঙা প্রসঙ্গে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমার মাথা নত হয়ে গিয়েছে। বামেদের সঙ্গে আমার মতবিরোধ আছে। তাই বলে ওদের বই বিক্রি করতে দেবো না! এটা হতে পারে না। যারা বামেদের স্টল ভাঙছে তারা কারা, আমি জানি না। এ রকম ঘটনা আর যেন না ঘটে।’
