উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুজের কাছে ঘরের মাঠে ৪-৩ গোলে হারের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও এক বড় দুঃসংবাদ পেল ইতালি জায়ান্ট ইন্টার মিলান। নতুন করে চোটে পড়েছেন দলটির অধিনায়ক ও আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্টিনেজ।
আগামী মাসের আন্তর্জাতিক বিরতির আগে মার্টিনেজ আর মাঠে ফিরতে পারছেন না বলে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইন্টার মিলান কর্তৃপক্ষ। ফলে আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতির আগে ক্লাবের হয়ে কোনো ম্যাচেই মাঠে নামা হচ্ছে না এই আর্জেন্টাইন তারকার।
মার্টিনেজের এই চোটের কারণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইতালিয়ান সিরি আ মিলিয়ে সব মিলিয়ে মোট ৭টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মিস করতে যাচ্ছে ইন্টার। এর মধ্যে রয়েছে বোলোনিয়া, শাখতার দোনেৎস্ক, ফিওরেন্তিনা, ভেনেসিয়া, এসি মিলানের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ‘মিলান ডার্বি’, ফেয়েনুর্দ এবং কোমোর বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ লড়াই। ফলে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর চ্যাম্পিয়নস লিগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তাকে দর্শক হয়েই মাঠের বাইরে বসে থাকতে হবে।
ইন্টার মিলান ক্লাব থেকে দেওয়া অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মার্টিনেজের উরুতে ইনজুরি (অ্যাবডাক্টর স্ট্রেন) ধরা পড়েছে। শুরুতে চোটটি যতটা হালকা মনে করা হয়েছিল, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরিস্থিতি তার চেয়ে কিছুটা বেশি জটিল বলেই দেখা গেছে।
ইন্টার মিলানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ‘রোজানোর হিউম্যানিটাস ইনস্টিটিউটে আজ লাউতারো মার্টিনেজের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও ডায়াগনস্টিক টেস্ট সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষায় তার বাঁ ঊরুর ফ্লেক্সর পেশিতে চোট ধরা পড়েছে।’
অবশ্য মাঠে ফেরার বিষয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখের কথা জানায়নি ইন্টার। আর্জেন্টাইন এই স্ট্রাইকার ঠিক কবে নাগাদ পুরোদমে খেলায় ফিরতে পারবেন, তা নিশ্চিত হতে আগামী দিনগুলোতে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এর আগেও চোট কাটিয়ে দ্রুত সময়ে মাঠে ফেরার বেশ কিছু নজির গড়েছেন লাউতারো। সাধারণত এই ধরনের পেশির চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। ইন্টারের অধিনায়ক হিসেবে দলের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মানসিক শক্তির ওপর ভর করে লাউতারো হয়তো আগামী ৩১ অক্টোবর নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলানের বিপক্ষে ‘মিলান ডার্বি’র আগেই সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার চেষ্টা করবেন—এমন আশাই করছেন সমর্থকেরা।
এর আগে ক্লাব ব্রুজের কাছে হারের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় লাউতারো লিখেছিলেন, ‘মাথা নিচু রেখে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে। নিজেকে উন্নত করার এটাই একমাত্র পথ।’
