“মায়ের কাছে চাওয়া তিনি যেন বিশ্বে শান্তি, দেশের মঙ্গল আর সমাজে সবাইকে একসাথে সহাবস্থানের মানসিকতা সৃষ্টি করেন।”
Published : 21 Oct 2026, 11:04 AM
Updated : 21 Oct 2026, 11:04 AM
শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী পেরিয়ে হাজির হয়েছে দশমী। এতে সারাদেশের সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে বিদায়ের এক অচেনা আবেশ।
নবমীর রাতের উচ্ছ্বাস, আনন্দ আর হই-হুল্লোড়ের রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার সকালের প্রথম আলো ফোটার সাথে জেলার ৬১২টি পূজামণ্ডপে এখন একই বিষণ্নতা।
শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ জেলেপাড়া সর্বজনীন পূজা মন্দিরের সভাপতি শিবপদ মন্ডল বলেন, “মায়ের বিদায়ের দিন দশমীর সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে নেমে এসেছে এক শুভ ও বিষাদময় পরিবেশ।”
আশাশুনির বাঁশদহা মণ্ডপ থেকে শুরু করে শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে কাচ দিয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মন্দির- সবখানেই নিশিপূজা ও দর্পণ বিসর্জনের পর থেকে শুরু হয়েছে বিষাদের সুর।
ভক্তরা চোখের কোণে জল চেপে অঞ্জলি দিচ্ছেন, দেবীর চরণে ফুল ও সিঁদুর ছুঁইয়ে বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চারপাশে ঢাকের কাঠি আর কাঁসার শব্দ বাজলেও তার মাঝে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে বিদায়ের ব্যাকুল সুর।
বিকালের সূর্য ঢলে পড়ার সাথে সাথেই মণ্ডপগুলোতে শুরু হবে চিরাচরিত ও রঙিন 'সিঁদুর খেলা'। বিবাহিত নারীরা একে অপরকে সিঁদুরে রাঙিয়ে, দেবী দুর্গার কাছে পরিবার ও বিশ্বের মঙ্গল কামনা করবেন। তার আড়ালে লুকানো থাকবে আবার এক বছরের অপেক্ষার বেদনা।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাইনতলা গ্রামের নারী উদ্যোক্তা লাভলী দাস বলেন, “সর্বত্রই একই দুঃখ। তারপরও মায়ের কাছে চাওয়া তিনি যেন বিশ্বে শান্তি, দেশের মঙ্গল আর সমাজে সবাইকে একসাথে সহাবস্থানের মানসিকতা সৃষ্টি করেন।”
মুন্সিগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরে সমাজকর্মী জালাল উদ্দিন বলেন, দুর্গোৎসব ঘিরে জেলায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর অবস্থা বিরাজ করছে। হিন্দু-মুসলিম আদিবাসী সবাই উৎসবে মিলিত হয়েছে।
শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ জেলেপাড়া সর্বজনীন পূজা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত মন্ডল বলেন, বিদায়ের অশ্রু আর আগামী বছরের পুনরাগমনের আশার আলো বুনে আজ শান্ত হবে সাতক্ষীরার পূজামণ্ডপগুলো- বাতাসে কেবল রয়ে যাবে দেবীর আশিস ও আকুল বিদায়ধ্বনি।
“গোধূলিলগ্নে ঢাকের তালের সঙ্গে অশ্রুসজল চোখে কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া কিংবা স্থানীয় নদী-জলাশয়ে দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হবে।”
