রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ছয়টি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা শহরের মোট ২২২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় ৮ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন বিজিবি সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোর ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ছয়টি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা শহরের মোট ২২২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে যশোর রিজিয়নের অধীন কুষ্টিয়া সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ চারটি জেলার ৬৬টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় প্রায় ৭০০ বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) জানিয়েছে, কুষ্টিয়া জেলা এবং মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে সীমান্ত থেকে আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ৫ প্লাটুন এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখবেন বিজিবি সদস্যরা।
এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় কুষ্টিয়ায় ৩৫ প্লাটন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিভিন্ন মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৭বিজিবি) কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন এ তথ্য জানান।
মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে বিজিবির কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘যশোর রিজিয়নের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত হতে আট কিলোমিটারের মধ্যে ব্যাটেলিয়ান সদর এবং সেক্টর সদরের আশেপাশে এলাকায় সর্বমোট ২২২টি পূজা মন্ডপে দায়িত্ব পালন করছি। এরমধ্যে কুষ্টিয়া সেক্টরের মধ্যে পদ্মা নদীর দক্ষিণ দিক থেকে যশোর পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কিলোমিটার রয়েছে। এই ৩০০ কিলোমিটার জায়গার আট কিলোমিটারের মধ্যে এবং সেক্টর সদর, ব্যাটেলিয়ান সদরের আশেপাশের জায়গাগুলোতে সর্বমোট আমাদের ৬৬টি পূজা মন্ডপ রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই ৬৬টি পূজা মন্ডপের দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা ২৪টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করেছি। এর মধ্যে কিছু আগে থেকেই ছিল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। এছাড়া কয়েকটি নতুন করা হয়েছে। এই ২৪টি বেইজ ক্যাম্প থেকে প্রায় ৮০০ জনবল অর্থাৎ প্রায় ৩৫ প্লাটন বিজিবি শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি, মেজর মোহাম্মদ আসরারুল হক, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭বিজিবি) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হুদা।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বস্তরের নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেছে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)।
