শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৬৮টি পূজামণ্ডপের পরিচালনা কমিটির মধ্যে ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সবাইকে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, এবার অনুদান বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পূজার পবিত্রতা ও উৎসবের পরিবেশ বজায় রেখে সুন্দরভাবে আয়োজন সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সাজেক সড়কে যারা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন, তাদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো সমস্যা থাকলে প্রশাসন ও সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। সড়ক অবরোধের কারণে মানুষের জীবিকা ও আয়ের উৎস যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। পাহাড়ি অঞ্চলের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সরকারের পরিকল্পনার অংশ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দুর্গাপূজা উপলক্ষে আর্থিক অনুদান বিতরণ কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মো. নুরুল আবছার এবং খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য।
এ সময় জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহফুজ, পরিষদের সদস্যরা, জেলা সদরে কর্মরত সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জেলার পূজামণ্ডপগুলোর সংখ্যা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তমল দাশ লিটন।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে ৬৮টি মণ্ডপের মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৪৪টি মণ্ডপকে প্রতিটিতে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরির ১৯টি মণ্ডপকে প্রতিটিতে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির পাঁচটি মণ্ডপকে প্রতিটিতে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বরাদ্দের পরিমাণ ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

