মানিকগঞ্জে অভিযানের মধ্যেও চলছে ইলিশ শিকার
মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় পদ্মা ও যমুনা নদীতে একের পর এক অভিযান চালাচ্ছে মৎস্য বিভাগ। জব্দ করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল ও ইলিশ, দেওয়া হচ্ছে কারাদণ্ড, হচ্ছে নিয়মিত মামলা। এরপরও বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার। উল্টো অবৈধভাবে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের বাধা দিতে গিয়ে হামলা ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা।
জেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ দিনে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, শিবালয়, হরিরামপুর ও ঘিওর উপজেলায় ১৫৩টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪৮ লাখ ২৩ হাজার মিটার অবৈধ ইলিশ ধরার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ১৯ লাখ ১ হাজার টাকা।
একই সময়ে ৭৬৩ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। ১৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৩২ জনকে। এ ছাড়া নিয়মিত মামলা হয়েছে ২৩টি।
হিসাব অনুযায়ী, ১২ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩টি অভিযান চালানো হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ২ হাজার মিটার জাল এবং ৬৪ কেজি ইলিশ।
শুধু নদীতে অভিযান নয়, মাছঘাট, আড়ত ও বাজারেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। ১২ দিনে এসব স্থানে মোট ৫২১টি পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২৫টি মাছঘাট, ১০৯টি আড়ত ও ২৮৭টি বাজার রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪৩টির বেশি স্থানে পরিদর্শন করেছেন মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
এত বিপুলসংখ্যক অভিযান, জাল জব্দ ও দণ্ডের পরও ইলিশ শিকার অব্যাহত থাকায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জনবল ও অর্থ বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা থাকলেও তাঁরা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। তবে বিভিন্ন স্থানে বাধার মুখেও পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
অভিযানে হামলা, কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ
দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারি এলাকায় অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতির কারণে তাঁদের অভিযানস্থল থেকে পিছু হটতে হয়।
দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার তন্নী বলেন, চরকাটারি এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারে জড়িত জেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁদের ওপর হামলা করেন। একপর্যায়ে তাঁরা পিছু হটতে বাধ্য হন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, মৎস্য বিভাগের জনবল কম এবং অভিযানের জন্য বরাদ্দও সীমিত। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে অভিযান চালাতে গিয়ে কর্মকর্তাদের হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে। দৌলতপুরে এক কর্মচারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সম্পদ রক্ষায় সবার সহযোগিতা চান কর্মকর্তারা
মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়ে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা জরুরি। এ লক্ষ্যেই নদীতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাছঘাট, আড়ত ও বাজারে নজরদারি জোরদার করেছে মৎস্য বিভাগ। অভিযানে জব্দ করা অবৈধ জাল জনসমক্ষে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে। জব্দ করা ইলিশ এতিমখানা, মাদ্রাসা ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু মৎস্য বিভাগের অভিযান দিয়ে ইলিশ সংরক্ষণ সম্ভব নয়; এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
