রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে রবিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিসভার এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠের প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে মোট প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকবে। ভবনগুলোতে প্রায় ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। এর মধ্যে ২০০টি হবে ভূ-উপরিস্থ পার্কিং।
প্রস্তাবিত সচিবালয় কমপ্লেক্সে মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতার দুটি মাল্টিপারপাস হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া ও একটি ডাকঘরসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা থাকবে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য রাখা হবে।
বর্তমান সচিবালয় রয়েছে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গার ওপর। সেখানে মোট ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ভবন স্বাধীনতার আগে নির্মিত। পুরনো ১ ও ২ এবং ৩ ও ৮ নম্বর ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে নির্মাণ করা হয়। ৫ নম্বর ভবন নির্মিত হয় ১৯৪৭ সালে। এসব ভবন ভূমিকম্প সহনীয় হিসেবে নির্মিত হয়নি।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ঢাকা শহর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় হওয়ায় পুরনো এসব ভবনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ। একইসঙ্গে ভবনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মপরিসর নেই। পর্যাপ্ত ওয়াশ-ব্লকের অভাব এবং ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমান বাংলাদেশ সচিবালয়ে মোট অফিস স্পেস প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত অফিস স্পেসের চাহিদা এবং সচিবালয় কমপ্লেক্সের বাইরে থাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের স্থান সংকুলানের জন্য আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস স্পেস প্রয়োজন।
এই বাস্তবতায় একনেকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে শেরেবাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী একটি ধারণাগত স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করেছে।
নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সে বাড়তি অফিস স্পেসের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা, পার্কিং, সবুজায়ন ও জলাধারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
