চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মির্জাপুরে আদর্শ সমাজকল্যাণ পরিষদ বিনামূল্যে দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণ শেষে ১৩ জন অসচ্ছল নারীকে সেলাই মেশিন, দুটি দরিদ্র পরিবারকে চারটি ছাগলছানা এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ ও উপহার দিয়েছে; একই অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের সম্মাননা ও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুরে আদর্শ সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে বিনামূল্যে দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণ শেষে ১৩ জন অসচ্ছল নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে দুটি দরিদ্র পরিবারকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে চারটি ছাগলছানা প্রদান, প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ ও উপহার বিতরণ এবং প্রবাসীদের সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
গত ১০ অক্টোবর শনিবার বিকেল ৩টায় মির্জাপুরের সরকারহাটস্থ গনি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ‘রাসুল (সা.)-এর সীরাত ও যাকাতভিত্তিক সমাজব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আদর্শ সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবি ও সমাজ সেবক অ্যাডভোকেট মো.আবুল কাশেম। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও ব্যাংকার মো. জাহাঙ্গীর আলম। উদ্বোধক ছিলেন বিশিষ্ট সংগঠক, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক, ইসলামি গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. আ ক ম আবদুল কাদের। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দিদারুল আলম, পিএসসি। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সংগঠক, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মো. মোর্শেদুল ইসলাম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে দুই মাসব্যাপী বিনামূল্যের দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারী ১৩ জন হতদরিদ্র নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া আরও ১৩ জনের মধ্যে সনদ ও সৌজন্য উপহার বিতরণ করা হয়। দারিদ্র্য বিমোচন ও পরিবারকে স্বাবলম্বী করার কর্মসূচির আওতায় দুটি দরিদ্র পরিবারকে দুটি করে মোট চারটি ছাগলছানা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রবাসীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আবুল বশর, কে.সি. শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকির হোসেন, আবদুল মালেক চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, হাটহাজারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি কেশব কুমার বড়ুয়া, কাটিরহাট বালিকা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ আহমদ এবং ওজি কনভেনশন হল, গনি শপিং সেন্টার, হাসপাতাল, কমিউনিটি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ওসমান গণি ও দৈনিক সংগ্রাম হাটহাজারী প্রতিনিধি শিক্ষক ও সাংবাদিক মো: একরামুল হক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ নুরুচ্ছাফা, অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন মুন্সি, নূর খলেক শহীদ, শাখাওয়াত হোসেন শিমুল, সৈয়দ শাহীনুল হক সাহেদ, মোহাম্মদ আবছার, মোহাম্মদ নূরউন নবী, মো. দৌলত, সৈয়দ আবুল মনসুর, সালাউদ্দিন আইয়ুবী, কাজী আবদুল আজিজ, সৈয়দ আজিজ উদ্দিন, নুরুল আলম, মোহাম্মদ নাজিম, মুরাদ, মো. দিদারুল আলম, মোহাম্মদ আলী, মো. এস্কান্দর, মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান, আনোয়ার শাহাদাত, আবদুর রহিম, আজিজুর রহমান, আবু ইরফান ও সালাউদ্দিন সবুজসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল, সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা।
বক্তারা বলেন, নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দরিদ্র পরিবারকে উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করা দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যকর উপায়। এ ধরনের উদ্যোগ নারীদের আত্মনির্ভরশীল হতে সহায়তা করবে এবং পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবে। তাঁরা যাকাতের অর্থ পরিকল্পিতভাবে ব্যয় করে অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও মানবকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সংগঠনের ধর্মীয় সম্পাদক মাওলানা কামরুদ্দীন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং যাকাতভিত্তিক স্বাবলম্বী পরিবার গঠন কর্মসূচির সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
