নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সেজন্য সরকারের প্রয়োজন হবে অতিরিক্ত ১৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।
এর মধ্যে বেতন ও ভাতা বাবদ ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। বাকি অর্থ প্রয়োজন হবে পেনশন খাতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশের ৩০ হাজার ৯৩২টি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৬ লাখ ২ হাজার ৩৫৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনতে এ অর্থের প্রয়োজন হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তারা কবে নাগাদ এ সুবিধা পাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সরকার গত জুলাই থেকে চার ধাপে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা চলতি মাসেই সংশোধিত বেতন ও বকেয়া পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ সুবিধা চালুর সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এর আগে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের ৫ শতাংশ বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও ৫ শতাংশ বা ন্যূনতম ১ হাজার টাকা বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল সরকার। সে সময় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও এ সুবিধা কার্যকর করতে আলাদা আদেশ জারি করেছিল অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ।
বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৫ সালেও এমপিওভুক্ত কর্মীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে ছয় মাস সময় লেগেছিল। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই এই সুবিধা চালুর জন্য অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় উভয়ই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
বর্তমানে এমপিওভুক্ত জনবলের পেছনে সরকার বছরে ১৯ হাজার ২২৭ কোটি টাকা ব্যয় করে। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের জন্য ১২ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা, মাদ্রাসার জন্য ৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৭৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
মাসিক পে-অর্ডার বা এমপিও ব্যবস্থার আওতায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি অনুদান থেকে মূল বেতনের শতভাগ পান। এর পাশাপাশি চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতাও দেওয়া হয়। গত বছর তাদের বাড়িভাড়া ভাতা মাসিক নির্দিষ্ট ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করা হয়।
আর্থিকভাবে সচ্ছল কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব তহবিল থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক বা সম্মানী দিয়ে থাকে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই সেই সামর্থ্য নেই। ফলে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দের ওপরই নির্ভর করতে হয় তাদের।
নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবে বিদ্যমান গ্রেড, স্তর ও বিষয়ভিত্তিক শ্রেণি অনুযায়ী মূল বেতন এবং বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রজাতন্ত্রের সরাসরি কর্মচারী নন। এ কারণে তারা কমিশনের আওতাভুক্ত নন। তবে বেসরকারি শিক্ষা খাতের ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে তাদের বেতন কাঠামো নিয়েও ভাবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও সুপারিশ করা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তাই আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ৩০ হাজার ৯৩২টি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৮ জন শিক্ষক এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
