সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, একটি জাতির পরিচয় তার সংস্কৃতি, সাহিত্য ও কৃষ্টির মধ্যে নিহিত। এসব দুর্বল হয়ে পড়লে জাতিও শক্তিশালী হতে পারে না।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের ৪৯ বছর পূর্তি উৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, নাটক, গান ও নৃত্যসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
গুণীজনদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাবাহিকতা হারিয়ে যাওয়ায় সংস্কৃতি অঙ্গনে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর প্রভাব সমাজেও পড়ছে। মাদকাসক্তি, মা-বাবার প্রতি অসম্মান এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের অভাবসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা থেকে উত্তরণে সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদার করা জরুরি।
তিনি বলেন, আগের প্রজন্মের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ছিল। দেশ ও সমাজের প্রতি ভালোবাসা থেকে তাঁরা নান্দনিক সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন। বর্তমান প্রজন্মের চিন্তা-চেতনার সঙ্গে আগের প্রজন্মের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান দূর করা না গেলে সামাজিক অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।
নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের ৪৯ বছর পেরিয়ে ৫০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সংগঠনটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, সংগঠনটির ৫০ বছর পূর্তির কর্মসূচির দায়দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবেন। নাটক, গান ও নৃত্যচর্চা টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি শিল্পকলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কয়েকটি হল একসময় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। জহির রায়হানের নামের একটি হলও ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। সেটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়ে সেখানে নাটক মঞ্চায়নের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। নাট্যচর্চা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টদের শুধু বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার কথা বলেছেন; অন্য কোনো খরচ লাগবে না বলেও উল্লেখ করেন।
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখভাল করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সমাজের উচ্চপর্যায়ের ও বিত্তবান ব্যক্তিদেরও এসব প্রতিষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে। দেশকে ভালো রাখতে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। এগুলোকে উপেক্ষা করে কেউ এককভাবে ভালো থাকতে পারে না।
নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবীণ শিল্পীদের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির সঙ্গে তরুণদের উদ্যমের সমন্বয় ঘটাতে হবে। দুই প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করতে পারলে দেশের সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে আবদুস সালাম বলেন, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের বিনোদনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। তাই সিনেমা হলসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা এবং এসব সংগঠনকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন, যাতে তারা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও পরিচ্ছন্ন দেশ গড়া, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে, কাউকে বাদ দিয়ে নয়।
